স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রিয় দর্শকের কাছে ইতালির ফুটবলের প্রতি বাড়তি একটা আগ্রহ আছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের পর ইউরোপিয়ান ফুটবল নৈপুণ্য উপভোগ করতে চান দর্শক। অনেকেই আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সমর্থন করেন। বিশ্বকাপ ফুটবলে এলে দেখা যায় ইউরোপিয়ান ফুটবলের বিভিন্ন দেশের পতাকার মধ্যে ইতালির পতাকাও উড়েছে বাংলাদেশের ফুটবল আকাশে।
পাওলো মালদিনি, পাওলো রসি, সিজার মালদিনি, রবার্তো ব্যাজিও, দেল পিয়েরোওদের খেলার কথা এখনো স্মরণ করেন বাংলাদেশের ইতালির সমর্থকরা। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি, চার বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব হতে বিদায় নেয়। আর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আরো করুণ অবস্থা হয় ইতালির। বাছাই পার হতে পারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে ইতালিয়ান সাংবাদিকরা এসেছিলেন খেলা কাভার করতে। তাদের কাছ থেকে ইতালির ফুটবলের করুণ চিত্রের খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইতালির সাংবাদিকরা বলছিলেন ফ্রান্স যেভাবে উপরে উঠে আসছে। ইতালি উলটো পথে হাঁটছে। সঠিক পরিকল্পনা নেই। নানা সমালোচনায় ইতালির ফুটবল কর্মকর্তারা জর্জরিত ছিলেন। পথ খুঁজে বের করার জন্য সবার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সমস্যা সমাধানে ইতালির ফুটবল সংগঠকদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন। ইতালির মাঠে বিদেশি ফুটবলারদের দখলদারিত্ব শেষ করতে আইনের দুর্বলতাগুলো সবল করা হলো। ইতালি ফুটবলে ঢুকে জার্মানি, ফ্রান্সের ফুটবলে ঠিকানা খুঁজে নিতে আইনে যেসব ছিদ্র ছিল তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল রাশিয়ার মস্কোতে লুজনিকি স্টেডিয়ামে ইতালির সাংবাদিকদের কণ্ঠে। তারাই তখন বলেছিলেন পথহারা ইতালি পথ খুঁজে পাবে। সে কথাই এবার ইউরোতে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ইউরোতে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের মধ্যে টানা তিন ম্যাচই জিতেছে ইতালি। রবিবার রাতে ইতালির রাজধানী রোমে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইতালি ১-০ গোলে ওয়েলসকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। আলোচনায় এখন ইতালি।
২০২০ সালে টানা ৮ ম্যাচ হারেনি, ড্র হয় ৩টি। সব মিলিয়ে গত রবিবার পর্যন্ত টানা ১১টি ম্যাচে হারেনি ইতালি। এমনকি এই ১১ ম্যাচে গোলও হজম করেনি কোচ রবার্তো মানচিনির ইতালি। ইতালির সমর্থকরা বলছে, মানচিনি তার রক্ষণ দুর্গ এমন ভাবে সাজিয়েছেন যেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বলয়। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইতালি ‘সি’ গ্রুপে টপে রয়েছে, তিন খেলায় ৯ পয়েন্ট। ৬ গোল করলেও গোল হজম করেনি ইতালি।
এতদিন ঘরের মাঠে রোমে খেলেছে ইতালি। এখন নকআউট পর্বে আগামী ২৬ জুন লন্ডনে নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হবে। সেখানে টিকবে, টিকবে না তার চেয়েও সব কথা হচ্ছে পথহারা ইতালির ফুটবল ধাক্কা সামলে নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে।
