গৌরনদী ও চরফ্যাশনে তিন জন খুন

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ২২:৩০

নির্বাচনি সহিংসতায় গতকাল সোমবার বরিশালের গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে দুই জন ও ভোলার চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে এক জন নিহত হয়েছেন। উল্লেখিত দুই ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি সহিংসতায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আছেন ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী এক আওয়ামী লীগ নেতাও।

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গতকাল দুপুরে ও সন্ধ্যায় বরিশালের গৌরনদীর  খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মৌজালী মৃধা (৪০) ও আবু বক্কর ফকির (২৫) নামে দুই জন  নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী ফিরোজ মৃধা ও মন্টু হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় মন্টু হাওলাদারের সমর্থক নয়ন মৃধাকে আটক করেছে। ভোটকেন্দ্র ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরপরই গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাঞ্জাপুর পাঙ্গাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র-সংলগ্ন রাস্তায় প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় নিহত হন আবু বক্কর ফকির। তিনি খাঞ্জাপুর গ্রামের আঞ্জু ফকিরের পুত্র ও বিজয়ী টিউবওয়েল মার্কার ইউপি সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন মৃধার সমর্থক। হামলাকারীরা পরাজিত মোরগ মার্কার প্রার্থী আরজ আলী সরদারের সমর্থক। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বাটাজোর ইউনিয়নের পশ্চিম চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শামীম সরদার ও শাহিন সরদার নামে দুই জন আহত হন।

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মনির হোসেন (২৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত মনির হোসেন হাজারীগঞ্জ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বশির উল্ল­ার ছেলে এবং ইউপি সদস্য প্রার্থী ইয়াছিন মাঝির সমর্থক। সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরফকিরা কো-ইড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আহত ৫

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চললেও শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকরা। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিলসহ পাঁচ জন আহত হন। গতকাল সোমবার ঝালকাঠি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ২২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্বোধন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। বিকাল ৩টার দিকে নির্বাচনে উটপাখি মার্কার কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ধীরগতিতে ভোটার নেওয়ার কারণ জানতে চান। এতে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা, ভাঙচুর শুরু হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টেবিল লাইট প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিলসহ পাঁচ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঠবাড়িয়ায় তিন ইউপিতে ১২ জন

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, মঠবাড়িয়ায় কোনো সহিংসতা ছাড়াই সোমবার শান্তিপূর্ণভাবে ছয় ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও নৌকা সমর্থকদের কেন্দ্রে ঢুকে সাধারণ ভোটারদের সামনে জোরপূর্বক নৌকায় সিল মারা, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মারধর, হুমকিধমকির অভিযোগসহ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিন ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী ১২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে এ ১২ প্রার্থী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।

বরগুনার দুই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র

চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন,

পুনরায় নির্বাচন দাবি

বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বরগুনা সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল এবং পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কেটে নেওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন। গতকাল দুপুরে তারা বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোট বর্জনকারী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন—উপজেলার ৩ নম্বর ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতীকের মো. জাকির হোসেন তপন এবং ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের আবু হেনা মোস্তফা কামাল।