চট্টগ্রাম বন্দর ও এয়ারপোর্টে রাখা পণ্য দ্রুত না সরালে বিক্রি হবে কিংবা ত্রাণ তহবিলে যাবে

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ২২:৩৫

চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের ইয়ার্ডে আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি না নিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় ফেলে রাখা হলে আইনানুগভাবে বিক্রি করা হবে কিংবা রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে দিয়ে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সতর্ক করে গত ৭ জুন আমদানিকারক ও স্টেকহোল্ডারদের একটি চিঠি ইস্যু করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের সব আমদানিকারক, যাত্রী এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশ কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর সেকশন ৮২-এর সাবসেকশন (১)-এর বিধান উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয় যে, বছরের পর বছর দূরে থাক, ঐ কাস্টমস অ্যাক্ট অনুসারে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে অবতরণের পর ফ্রি টাইমসহ ৩০ দিনের মধ্যে এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পণ্য অবতরণের পর ফ্রি টাইমসহ ২১ দিনের মধ্যে বিধি অনুসারে শুল্ক-কর ইত্যাদি পরিশোধ করে পণ্য ডেলিভারি নেওয়া না হলে সেগুলোর আইনি নিষ্পত্তি করা হবে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, এভাবে চলতে দেওয়া যায় না, এ ব্যাপারে কাস্টমস আইন ও বিধিবিধান রয়েছে যা আমদানিকারক ও স্টেকহোল্ডারদের মানতে হবে। ‘নিষ্পত্তি’ বলতে কী বুঝায়—এই প্রশ্নের উত্তরে কাস্টমস কমিশনার জানান, এসব পণ্য নিলামে উঠবে, ধ্বংস করা হবে, বিক্রি করা হবে—এমনকি রাষ্ট্রীয় ত্রাণ  তহবিলেও পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, এই চিঠির মাধ্যমে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দিলাম যাতে তারা তাদের পণ্য আইনানুগভাবে শুল্ক-কর দিয়ে যথাসময়ে নিয়ে যান। তিনি জানান, এ মুহূর্তে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের কোনো জট না থাকলেও ক্রমবর্ধমান পণ্য আমদানির মুখে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত জট পরিস্থিতির যাতে উদ্ভব না হয় তার প্রস্তুতি অবশ্যই রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইইউস। বর্তমানে ইয়ার্ডে রয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার টিইইউস। অন্যদিকে কাস্টমসের নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে ৭ হাজার ৪৯৬ টিইইউস পণ্যভর্তি কনটেইনার।