করোনাকালীন প্রথম লকডাউনে চিকিত্সক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা বাবদ ৩০ হোটেলের ৪০ কোটি টাকা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পরে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব এ বিল পরিশোধ করা হবে।
জানা গেছে, সোমবার সকালে বকেয়া হোটেল বিল পরিশোধের দাবিতে মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পরে তারা পরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বিহার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কো-চেয়ারম্যান খালেদ-উর-রহমান বলেন, ঢামেকের চিকিত্সক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের জন্য আমাদের হোটেলগুলোয় খাবারসহ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের হোটেলগুলোর সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যালের চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল—হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রতি ১০ দিন পর পর ঢাকা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিল সাবমিট করবে এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিল পরিশোধ করা হবে। আমরা নানা বিধিনিষেধ অতিক্রম করে গত বছরের আগস্ট থেকে জুলাইয়ের বিল সাবমিট করি। কিন্তু ১১ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিল আমরা পাইনি। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বিল ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো সুফল পাচ্ছি না। তাই আমাদের দাবি করা গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (তিন মাস) পর্যন্ত ন্যায্য বিল চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করার দাবি জানাচ্ছি।
বিহার সহসভাপতি সাইদুল আলম টিটো বলেন, আমাদের হোটেল ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে দেশের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। এই ৪০ কোটি টাকা আমাদের কাছে তেমন কোনো বড় বোঝা নয়। কিন্তু করোনায় আমাদের ব্যবসার অবস্থা ভালো না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না। আমাদের অনেক ইউটিলিটি বিল জমে গেছে।
