চট্টগ্রামে কোভিড রোগীর ১২ ঘণ্টায় বিল ৯৬ হাজার টাকা!

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ০৪:৪৮

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চিকিত্সা নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ফি আদায় করা হচ্ছে। 

নগরীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে এক রোগীকে এক রাতের চিকিত্সা বাবদ ৯৬ হাজার টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিকিত্সা নিয়ে এ অবস্থা হলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর চিকিত্সা ফি আদায় নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ আসে। একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছামতো রোগীদের চিকিত্সা বিল ধরিয়ে দিচ্ছে।

No description available.

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, গত ২০ জুন রাতে হাবিবুর রহমান নামে এক করোনা রোগীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে রোগীর স্বজনকে চিকিত্সা বাবদ ৯৫ হাজার ৯৮২ টাকার একটি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোগীর পুত্র অ্যাডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ বলেন, ‘রাতে বাবাকে ভর্তি করেছি। চিকিত্সকরা করোনা সন্দেহ করছেন। কিন্তু ভর্তির ১২ ঘণ্টা পর আমাকে বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো কনসালটেন্ট কল করা হয়নি। অথচ বিল করা হয়েছে। বিকালে বাবাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, বেড ভাড়া ৯ হাজার টাকা, কনসালটেশন ফি ৭ হাজার ৩৭০ টাকা, ওষুধ বাবদ ৩১ হাজার ৭২২ টাকা, অক্সিজেন চার্জ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, প্যাথলজি বাবদ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকা, রেডিওলজি বিল ৭ হাজার ৭২ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ ১৫ হাজার ৯৯৭ টাকা। এর বাইরে সিবিসি, অভ্যন্তরীণ কনসালটেশন চার্জ নেবুলাইজেশন চার্জ, অ্যাম্বুলেন্স চার্জ বাবদ বিল করা হয়েছে। হাসপাতালের জিএম মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাকে হাই ফ্লো অক্সিজেন দিতে হয়েছে। চিকিত্সার ওপর ভিত্তি করে বিল তৈরি করা হয়। করোনার ওষুধগুলোর দাম বেশি। অনেক পরীক্ষা করতে হয়েছে। তাই বিল বেশি হয়েছে।’

No description available.

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেডে অন্যান্য মুমূর্ষু রোগীর সঙ্গে করোনা রোগীদের রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তাদের আলাদা কোনো আইসিইউ বেড নেই। জানতে চাইলে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনা রোগীর আইসিইউ বেড আলাদা থাকা প্রয়োজন। তবে এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কিছু হাসপাতালে কোভিডের আলাদা আইসিইউ বেড আছে। তবে এখন বেসরকারি হাসপাতালে অনেক আইসিইউ বেড খালি আছে।’ ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে কোভিড রোগীর আইসিইউ আলাদা বেড করা হয়েছে। কোভিড রোগীর জন্য আলাদা ইউনিট রয়েছে।’


বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিত্সা বিল নিয়ে প্রায় সময় নানা অভিযোগ শুনা যায়। বেশি অভিযোগ অতিরিক্ত বিল আদায়।

দেশে এখনো ১৯৮২ সালে প্রণীত মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস অনুসারে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৮ বছরেও নতুন করে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না তা তদারকির জন্য সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের নেতৃত্বে দুটি কমিটি রয়েছে। কিন্তু এসব কমিটির কোনো কাজ মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় না। নিয়ম রয়েছে কমিটিগুলো তদন্ত করে কোনো অনিয়ম পেলে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিপোর্ট করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসাইন মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এখনো ১৯৮২ সালে প্রণীত নীতিমালায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লাইসেন্স দিচ্ছি। নতুন করে কোনো নীতিমালা হয়নি। বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করার জন্য সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকের নেতৃত্বে কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির সুপারিশে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। এই কমিটির মাধ্যমে আমরা অনেক অনিয়মের রিপোর্ট পেয়ে থাকি। ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এনএ