করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ দেশের জেলাগুলোতে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা খালি নাই। করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী শয্যা না থাকায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মহামারি শুরুর পর থেকে চিকিত্সাব্যবস্থা কতটা নাজুক তার চিত্র দেশের নানা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য শয্যাসংখ্যা প্রায় শূন্য দশমিক ৩২টি। বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য শয্যাসংখ্যা প্রায় শূন্য দশমিক ৬৪টি। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৯৬টি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার মানুষের বিপরীতে সাড়ে তিনটি শয্যা থাকতে হবে। সেই হিসেবে, আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় শয্যাসংখ্যা অনেক কম। করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হলে আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের উচিত আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে লকডাউনে না রেখে হাসপাতালে আইসোলেশনে সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে সঠিক চিকিত্সা নিশ্চিত করা। সব জেলা ও উপজেলায় করোনা পরীক্ষার আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সাপ্লাইব্যবস্থা চালু ও আইসিইউ বেড স্থাপন করে, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে, চিকিত্সক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রাশেদ ইসলাম, জয়পুরহাট
