স্কুুল শিক্ষার্থীর অনন্য উদ্ভাবন

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২১:৩২

আজ থেকে দশ মাস আগে অক্সিজেনের অভাবে বাবা মারা যায় তারিফের। শ্বাসকষ্টের রোগী আব্দুস সালামকে তখন অক্সিজেন দেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু দরিদ্র ঘরের সন্তান হওয়ায় বাবার জন্য তখন অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তবে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন স্বল্প খরচে একদিন অক্সিজেন তৈরি করবেন। তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। অল্প খরচে বাতাস থেকে অক্সিজেন উত্পাদনের প্ল্যান্ট তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই কিশোর। তিনি  পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি মডেল এসএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ। নিজের তৈরি উদ্ভাবন সম্পর্কে তারিফ জানান, ডায়ানামো দিয়ে বাতাসকে প্রথমে একটি সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয়। বাতাসে অক্সিজেন ছাড়াও অন্যান্য উপাদান থাকায় সেগুলো বের করার জন্য জিওলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। জিওলাইটের মাধ্যমে বাতাস থেকে অক্সিজেনকে একদিক দিয়ে এবং অন্যান্য উপাদানকে আরেকদিক দিয়ে বের করা হয়। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি কম খরচের এই প্ল্যান্টটি তৈরি করেছেন।

তারিফ বলেন, ‘সাধারণত প্রতি মিনিটে ১০-১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করে এমন অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার উদ্ভ্ভাবিত যন্ত্রটি প্রতি মিনিটে ২৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। এটি স্থানীয় বিভিন্ন উপকরণে তৈরি করতে খরচ পড়েছে ৬৫ হাজার টাকার মতো। সম্পূর্ণ স্থানীয় প্রযুক্তির ব্যবহারে এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন সপ্তাহ। তবে পরবর্তী সময়ে এটি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান, তার উদ্ভাবিত অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেন্ট্রেটর বাতাসের ২১ শতাংশ অক্সিজেনকে প্রক্রিয়াজাত করে ৯৮ শতাংশে রূপান্তর করে। এ যন্ত্র একটানা ৭ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহে সক্ষম। এরপর মাত্র ১০ মিনিট বিরতি দিলে আবার টানা ৭ ঘণ্টা চলে।

তারিফ তার নিজের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে এর নামকরণ করেছেন ‘টি.এল.আর-সিভি.১৯’।

তারিফের অক্সিজেন ল্যাব পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ল্যাব টেস্টে সাফল্য প্রমাণিত হলে বৃহত্তর পরিসরে এই মেশিনের উত্পাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তারিফ।

যন্ত্রটি যখন উদ্ভাবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল তখন অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম তারিফকে স্কুল থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও উত্সাহ দেন। পরে ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েসকে জানানো হলে তিনিও উপজেলা প্রশাসন থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এছাড়া শিক্ষক ফারজানা ইয়াসমিন দীনা, গোলাম মওলা, রঞ্জন কুমার কুণ্ডু, মতিয়ার রহমান ও মখলেছুর রহমান ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করার জন্য তার দুই সহপাঠী মুনতাসির শ্রাবণ ও জিহাদ হাসানকে ধন্যবাদ জানান তারিফ।