নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় কাজলা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙনে বসতবাড়িসহ দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন তুলারামপুর সেতুর কাছে কাজলা নদীর পূর্বপাড়ে বসবাসরত মোফাখ্খারুল তরফদার। এদিকে তুলারামপুর সেতু সংলগ্ন উত্তর পাশের স্লুইসগেটের কাছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় এ ভাঙন আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার কাজলা নদীর পূর্বপাড় ঘেঁষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্মিত তুলারামপুর-মাইজপাড়া সড়ক অবস্থিত। তুলারামপুর সেতু সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বের স্লুইসগেটের আশপাশের এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে পাঁচটি বসতবাড়িসহ ১২টি দোকানঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
মোফাখ্খারুল তরফদার জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে অনেকদিন ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার হয়নি। এখন বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, কখন জানি আমাদের সব কিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সেই ভয়ে দ্রুত প্রতিকারের আশায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের এই কাজটা আগে করা হয়।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘নদীভাঙনের ব্যাপারে আবেদনের বিষয়ে জেনেছি। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে তুলারামপুর সেতু এলাকার কাজলা নদীর তীরবর্তী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হলে ব্যবস্থা নেব।’
