ডিএনডিবাসী পানিবন্দি

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২১:৪৭

চলতি মাসে ঘন-ঘন বৃষ্টির কারণে ডিএনডির অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এলাকার ২২ লাখ বাসিন্দা। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি দুই থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রান্নাঘর, টয়লেট ও ঘরের মেঝে ময়লা পানিতে একাকার। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। গতকালের বৃষ্টির কারণে ডিএনডির উঁচু এলাকাও পানিতে ডুবে গেছে। গতকাল দুপুরে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে কদমতলী পুল এলাকায় মানববন্ধন করেছে নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সেনাবাহিনীর প্রজেক্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ভোগ লাগবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, গত তিন বছর ধরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাগবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে ‘নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি টাকা ছাড় না পাওয়ায় ১২৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে ঠিকাদারদের। এতে করে প্রকল্পের কাজ মন্থর গতিতে চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্পের পরিচালক রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ২০২৩ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও পুরোপুরি জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে জনগণের দুর্ভোগ লাগবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

তিনি আরো জানান, ১৯৬২-৬৮ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ডিএনডি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। ক্রমাগত নগরায়ণের কারণে ডিএনডি প্রকল্পের বেশির ভাগ কৃষিজমি আবাসিক প্লট ও শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহূত হতে থাকে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাল ও নর্দমা  অবৈধভাবে বেদখল হয়ে যায়। ফলে প্রকল্প এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খাল থেকে কৃষিজমি নিচু ছিল। সেই কৃষিজমিতেই বাড়িঘর নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি খালে এসে পৌঁছায় না। যেসব এলাকার পানি সরাসরি খালে আসে, সেখানেও বাড়িঘরের ব্যবহূত ময়লা-আবর্জনা, গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার বর্জ্য খালে ফেলে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। বর্ষার কারেণ ব্রিজ-কালর্ভাট তৈরির জন্য যেসব রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, কাজ বন্ধ রেখে তা কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে পানি আটকে না থাকে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পের অনুমোদিত কাজের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শিমরাইল ও আদমজী এলাকায় দুটি পাম্প স্টেশন ছাড়াও ফতুল্লা, পাগলা ও শ্যামপুরে তিনটি পাম্পিং প্লান্ট নির্মাণ করাসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, শিমরাইল পাম্প হাউজের নতুন ২০০ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ও পুরাতন পাম্প হাউজের তিনটিসহ মোট ছয়টি পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। নতুন প্রতিটি পাম্প দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৪ হাজার লিটার পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুতই পানি নেমে যাবে। ডিএনডি পাম্প হাউজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, বর্তমানে নিষ্কাশন খালে ৩ দশমিক ৪৫ মিটার পানি রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে থাকে ২ দশমিক ৬৭ মিটার। খালে পানি পৌঁছালে নিষ্কাশন করতে কোনো সমস্যা নেই।