অসচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এছাড়াও উদ্বেগের বিষয় হলো—বাড়ির আশপাশের ডোবা-নালা-পুকুর-সবকিছু উন্মুক্ত। শিশুরা সবার অলক্ষ্যে অবাধে জলাশয়ে চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। গতকাল ‘পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ’ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংগঠন গণসাক্ষরতা অভিযান, বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক, সিআইপিআরবি ও সমষ্টি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতা সংস্থা গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় অনলাইনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মা ও শিশুমৃত্যুর হার যেভাবে কমিয়ে এনেছি, আশা করি একইভাবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে পারব। সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘যৌথভাবে সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় ও সার্বিক সহায়তা ছাড়া যথাযথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’
সভাপতির বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘এনজিওদের সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়বে, তেমনি কম সময়ের মধ্যে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করছি, দ্রুততর সময়ের মধ্যে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে ডিপিপি অনুমোদিত হবে।’ বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের পরিচালক ড. আমিনুর রহমান জানান, দারিদ্র্য, অসচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবের কারণে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি এক গবেষণার বরাত দিয়ে বলেন, দিনের প্রথম ভাগে শিশুদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হলে বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে গ্রামভিত্তিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র সফলভাবে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে কার্যকর।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৫-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোগ-বালাইয়ের বাইরেও বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। তাই শিশুমৃত্যু নিয়ে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে প্রতিরোধযোগ্য এ মৃত্যু কমানো জরুরি। পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু শিশুকে পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে বাঁচানো সম্ভব। এটি করতে পারলে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
