‘প্রকৃত শিল্পীরা কাজ করেছেন সিরিয়ালটিতে’

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২১:৫৬

অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও মডেল আশনা হাবিব ভাবনা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মানসম্পন্ন কাজ উপহার দিচ্ছেন দর্শকদের। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো বিটিভির একটি সিরিয়ালে অভিনয় করলেন। সিরিয়ালটিতে অভিনয়সহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

 

বর্তমানে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

‘এখানে কেউ থাকে না’ শিরোনামের একটি সিরিয়ালের প্রথম লটের কাজ শেষ করলাম। ঈদের পর দ্বিতীয় লটের শুটিং করবো। পাশাপাশি ঈদের একটি নাটকের কাজ করলাম, আরো কিছু কাজ শিগগিরই শুরু করবো। এছাড়া কয়েকটি ওয়েব সিরিজের কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সিরিয়ালটিতে আপনার চরিত্র ও এর গল্প সম্পর্কে জানতে চাই—

এতে ‘অর্পিতা’ চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে ছবি আঁকে। একটু অন্যমনষ্ক থাকে এবং ভবিষ্যতের কথা আগে বলে দিতে পারে। আর গল্প নিয়ে বলবো, একটি অতি-অলৌকিক গল্পে সিরিয়ালটি নির্মিত হয়েছে। মধুপুর নিজেদের কেনা বাংলোতে ঘুরতে যায় একটি পরিবার এবং সেখানে বাংলোটিকে ঘিরে ঘটতে থাকবে নানা অলৌকিক ঘটনা।

‘এখানে কেউ থাকে না’ সিরিয়ালটিতে বিশেষ কী থাকছে দর্শকদের জন্য?

দর্শকরা সিরিয়ালটি দেখলেই বুঝতে পারবেন অন্যরকম একটি গল্পে এটি নির্মিত হয়েছে। অনেকে সিনেমা ভেবেও ভুল করেতে পারেন। এছাড়া বর্তমান সময়ের কোনো নাটক-সিরিয়ালে এত গুণীর সমন্বয় চোখে পড়বে না, যা এই সিরিয়ালটিতে দেখা যাবে। এতে অসাধারণ শিল্পীরা অভিনয় করেছেন। স্ক্রিপ্ট ছাড়া নির্মাণ চর্চার এই সময়ে ৬০ পর্বের স্ক্রিপ্ট আমরা আগেই পেয়েছিলাম। যে কারণে সবাই নিজের চরিত্র সম্পর্কে জানতাম। পাশাপাশি নাটকটি সেট নির্মাণ করে শুটিং করা হয়েছে। চরিত্র অনুযায়ী কাস্ট করে অনেক গোছানো একটি কাজ করেছেন অনিমেষ আইচ। বলতে পারেন, প্রকৃত শিল্পীরা কাজ করেছেন সিরিয়ালটিতে।

আপনার নতুন সিনেমা কবে পাচ্ছে দর্শকরা?

নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুটি’ শিরোনামের একটি ছবির কাজ শেষ করেছি। এখন পরিচালক-প্রযোজক বলতে পারবেন কবে পর্দায় আসবে ছবিটি।

নতুন মাধ্যম ওটিটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন?

এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ইতিবাচক। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকেই এই মাধ্যমটি জনপ্রিয়। দেরিতে হলেও আমাদের দেশে করোনাকালীন দারুণ প্রভাব ফেলেছে মাধ্যমটি। এতে করে শিল্পী-কলাকুশলীদের কাজের পরিধি বাড়ছে। এটা তো নিশ্চয় ভালো একটি দিক।

কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে মানহীন কন্টেন্ট বাড়ছে এবং ভাইরালও হচ্ছে। এর নেপথ্যে দর্শক চাহিদাকে দায়ী করছেন অনেকে। আপনি কী মন্তব্য করবেন?

দর্শক চাহিদায় এ ধরনের কাজ হয় বলে আমি মনে করি না। কারণ দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে তো নির্মাণ করা হয় না। একটি কাজ রিলিজ হলে তবেই দর্শকরা ভালো লাগা, মন্দ লাগা জানায়।

ভিউ গুণে নাটকের মান ও স্টার নির্ধারণ নিয়ে কী বলবেন?

এখন অনেক মানহীন কাজ সুপারহিট হয়, আবার অনেক ভালো কাজের ভিউ কম হয় বা সুপারহিট হয় না। তাছাড়া দর্শকপ্রিয়তার জন্য নানা উপায় কিন্তু আছে। কিন্তু সেই ভিউগুলো আসল কি-না সেটা ভাবার একটি বিষয়। কারণ ভাইরাল হওয়া এখন খুব সহজ একটি কাজ। বলা যায়, যত সস্তা তত ভাইরাল!

সাইবার বুলিং এখন হরহামেশাই চোখে পড়ছে। আপনি’সহ অনেক তারকাই এর শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে কী বলবেন?

এটা নিয়ে শুধু ফেসবুকে প্রতিবাদ না করে আমি কিন্তু সাইবার ক্রাইমে গিয়ে পুলিশ রিপোর্ট করেছি। একজনকে ধরা হয়েছে এবং অপরাধী ক্ষমাও চেয়েছেন। শুরু থেকেই সাইবার বুলিং নিয়ে আমি কথা বলেছি এবং আশার কথা হচ্ছে, এটা নিয়ে এখন অনেকেই কথা বলছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি সবসময় প্রতিবাদ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।