আগামী এপ্রিল ও মে মাসে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিতে পারেন তিন নারী। গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতের সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে উঠে আসা এই তিন প্রভাবশালী নারী রাজনীতিক মোদীর দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হুমকিতে ফেলতে পারে। তারা হলেন, নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী।
সম্প্রতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দলের অন্যতম সম্পাদক বানিয়ে উত্তর প্রদেশের একটি অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়াঙ্কাকে রাজনীতিতে আসার আহবান জানিয়ে আসছিল। অনেকের মতে, জনগণকে আকৃষ্ট করতে দাদি ইন্দিরা গান্ধীর মতো ক্যারিশমা আছে নাতনি প্রিয়াঙ্কার মধ্যেও। তার আগমনে চাঙ্গা হবে কংগ্রেস।
ভারতের জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ থেকে বিজেপিকে শূন্য হাতে ফেরাতে চান দলিত নেত্রী মায়াবতী। এজন্য চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছেন তিনি। এই রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে তারা একক প্রার্থী দেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর প্রদেশে বিজেপির ভোটের চেয়ে এ দুই দলের ভোট বেশি। যে কারণে নিশ্চিতভাবে দুশ্চিন্তায় পড়বে মোদীর দল। আর পশ্চিমবঙ্গে কখনোই ভালো করেনি বিজেপি। সেই ধারা অব্যাহত রেখে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জেতার মিশনে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বলা চলে, এখন পর্যন্ত মোদী বিরোধিতায় অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন মমতা।
খবরে বলা হয়েছে, মোদীর দলকে ক্ষমতা থেকে উত্খাত করতে ভিন্ন ভিন্ন দলের এই তিন নারী এক হয়েছেন। যদিও দলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি। এ বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা বলেন, এনডিএ’র তুলনায় বিরোধী দলে অধিক প্রভাবশালী নারী নেতৃত্ব আছে। তারা সাধারণ ভোটারদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে সক্ষম, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে। তবে এটাও সত্য যে, নরেন্দ্র মোদী এখনো জনপ্রিয় নেতা।
প্রিয়াঙ্কার স্বামীর আগাম জামিন
অর্থ পাচারের একটি মামলায় দিল্লির আদালত থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগাম জামিন পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী ব্যবসায়ী রবার্ট ভদ্র। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, লন্ডনে প্রায় ২০ লাখ পাউন্ডের একটি সম্পদ কেনার সময় রবার্ট অর্থ পাচার করেন অভিযোগে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ‘ডিরেক্টরেট অব ইনফোর্সমেন্ট’ তার বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, নির্বাচনের বছরে হেনেস্তা করতে এ মামলা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
