চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল, কর্ণফুলী নদী, সমুদ্রের বহির্নোঙরসহ উপকূলে ছোট জাহাজডুবির ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি জাহাজ মালিক, পণ্যের মালিক-ব্যবসায়ী এমনকি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষেরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা গেছে, গত কয়েক মাসে কর্ণফুলী নদী, বন্দর চ্যানেল ও আশপাশে লাইটার জাহাজ, কার্গো জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের তিন থেকে চারটি ছোট জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব জাহাজডুবির ঘটনায় একদিকে যেমন চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলসহ উপকূলে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, অন্যদিকে প্রতিটি ঘটনাতেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক সময় লাইটারেজ জাহাজ, যেগুলো বন্দরের বহির্নোঙরে সমুদ্রে অবস্থানরত বড় জাহাজ থেকে খোলা পণ্য বহন করে থাকে, সেগুলো মাস্টারের বদলে সুকানিদের দ্বারা চালানো হয়। আবার অনেক লাইটারেজ জাহাজ ও কার্গো জাহাজ পুরোনো হয়ে গেছে। এগুলোর অনেকগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পণ্য নিয়ে কর্ণফুলী নদীসহ কুতুবদিয়া চ্যানেল ও সন্দ্বীপ চ্যানেলসহ বিভিন্ন নৌপথে চলাচল করছে। ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলেই প্রতি বছর গড়ে চার থেকে পাঁচটি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে এসব জাহাজকে দেওয়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ফিটনেস সার্টিফিকেট। এছাড়াও অপ্রতুল নজরদারির কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে গত সোমবার সন্ধ্যায় কর্ণফুলী নদীর জুট রেলি ঘাটের কাছে ডুবেছে পাথরবোঝাই ‘এমভি রুহুল আমিন খান’ নামের একটি লাইটারেজ জাহাজ।
সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম মিজানুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে যে, জাহাজটি চালানোর জন্য এতে কোনো মাস্টার ছিল না, যা নৌ আইনের চরম লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাহাজটির দুই জন সুকানিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায় জাহাজটি চালাচ্ছিল একজন সুকানি। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ বড় জাহাজ থেকে পাথর খালাস করে এমভি রুহুল আমিন খান নামের লাইটারেজ জাহাজটি কর্ণফুলীর ঘাটে ভেড়ানোর জন্য আসছিল। নদীতে নোঙর করা ‘ওটি মিক হূদয় ১’ নামের একটি খালি অয়েল ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এমভি রুহুল আমিন খানের আর এতেই ডুবে যায় সেটি।
তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অয়েল ট্যাংকারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সদরঘাট থানায় মঙ্গলবার অয়েল ট্যাংকারের মালিকের পক্ষে একটি সাধারণ ডায়ারি করা হয়েছে। এমভি রুহুল আমিন খানের মালিককে পুলিশ খুঁজছে।
চট্টগ্রামস্থ মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টর প্রিন্সিপাল অফিসার (পিওএমএমডি) ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কর্ণফুলীতে সোমবার রাতে পাথরবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত কেউ তার কাছে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া জাহাজটির রেজিস্ট্রেশন চট্টগ্রামে নাকি ঢাকায়—এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যদি রেজিস্ট্রেশন চট্টগ্রামে হয়ে থাকে তাহলে মামলা এবং তদন্ত কমিটি এখানে হবে। রেজিস্ট্রেশন ঢাকায় হলে তা ঢাকার কর্তৃপক্ষ দেখবেন। চট্টগ্রামে মেয়াদোত্তীর্ণ ছোট জাহাজ চলাচল এবং জাহাজ চালনায় অনিয়ম তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের নৌ-পরিদর্শকরা সব সময় নৌযান নিয়ে রাউন্ড দিচ্ছেন, পর্যবেক্ষণেও আছেন। অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
