খাসোগির ৪ হত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ১৩:৪১

সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় অংশ নেওয়া চারজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধাসামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদনেই ওই ব্যক্তিরা সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, খাসোগিকে হত্যার এক বছর আগে সৌদি আরবের ওই ৪ এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আরাকানসাসভিত্তিক সিকিউরিটি কোম্পানি ‘টায়ার ১ গ্রুপ’। এই কোম্পানির মালিক বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা গ্রুপ সারবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। ‘টায়ার ১ গ্রুপের’ মালিক সারবেরাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুইস বারমার ওই প্রশিক্ষণে তাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পেন্টাগনের একটি শীর্ষ পদে মনোনয়নের সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে এ তথ্য জানান তিনি।

Khashoggi killers received paramilitary training in US: NY Times | News |  Al Jazeera

‘টায়ার ১ গ্রুপের’ পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই প্রশিক্ষণে ‘নিরাপদ লক্ষ্যভেদ’ এবং ‘হামলা মোকাবিলার’ মতো বিষয়গুলো ছিল। ৪ জনের প্রশিক্ষণে আত্মরক্ষামূলক এবং সৌদি আরবের নেতাদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া নজরদারি ও স্বল্পপরিসরে লড়াইয়ের ওপরও তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়।

২০১৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রথম দাবি করা হয়, সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যাকারী দলের ৪ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ওই কলামে বলা হয়, সিআইএ তৎকালীন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল, টায়ার ১ গ্রুপ তাদের নিবন্ধন ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের কোনো প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে, যা সন্দেহজনক।

৪ সৌদি নাগরিককে টায়ার ১ গ্রুপে প্রশিক্ষণ নেওয়ার নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন কিনা তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের বক্তব্য জানা যায়নি।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করে সৌদি গুপ্তচররা। পরে তার লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাসোগি হত্যায় সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ অনুমোদন দিয়েছিলেন।

ইত্তেফাক/টিআর