পাখি

বর্ষায় পরিযায়ী পাখি ‘শুমচা’

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২০:১৬

শুমচা আমাদের দেশে পরিযায়ী পাখি। মূলত গ্রীষ্মকালের শেষদিকে বৃষ্টি শুরু হওয়ামাত্রই ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার থেকে এদেশে পরিযায়ী হয়ে চলে আসে। পরিযায়ী শুমচাকে এদেশের সাধারণ মানুষ জানে অতিথি পাখি হিসেবে। প্রতিবছর এ পাখিগুলো আমাদের দেশে আসে খাওয়া-দাওয়া আর প্রজননের জন্য। অতিথি হয়ে এলেও পাখিগুলোর জন্ম কিন্তু বাংলাদেশেই। তাই এ পাখিগুলোকে অতিথি না বলে গ্রীষ্ম বর্ষার পরিযায়ী বলাই বেশি সঙ্গত। শুমচা পাখির বর্ষাপ্রীতি একেবারেই প্রাকৃতিক। বর্ষার আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না তারা, তাই বৃষ্টিধারা গায়ে মাখতে সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে বৃষ্টিপ্রিয় পরিযায়ী এই পাখি আমাদের দেশে চলে আসে। অনাদিকাল ধরেই চলছে তার বর্ষামৌসুমের ধারাবাহিক প্রত্যাবর্তন।

অনিন্দ্যসুন্দর পাখিটির গায়েই যেন লেগে আছে প্রকৃতির সব রঙ। শুমচা পাখির ইংরেজি নাম পিট্টা। পৃথিবীতে অন্তত ১৪ প্রজাতির পিট্টা বা শুমচা দেখা যায়। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পিট্টার ছয়টি প্রজাতি রয়েছে। আমাদের দেশে মূলত নীলঘাড় শুমচা, খয়রামাথা শুমচা, দেশি শুমচা ও প্যারা শুমচা দেখা যায়। অঞ্চলভেদে এরা  নওরঙ, নীল পাখি, বনসুন্দরী, সাদা হালতি নামেও পরিচিত। এদের পেটের রঙ লাল, বুক সোনালি পীতাভ আর পিঠে নীল-সবুজের মিশ্রণ। সাদা গলার ওপর চোখে কালো কাজলের দাগ। এরা সাধারণত গাছের মাঝামাঝি অংশে বাসা বাঁধে। বুনো বাঁশঝাড়, শালগাছসহ আম, জাম বা কাঠাল গাছে পাতা দিয়ে এরা বলের মতো বাসা তৈরি করে। এমনভাবে বাসা তৈরি করে যাতে পানি কিছুতেই বাসার ভেতরে ঢুকতে না পারে। শুকনো পাতা দিয়ে দিয়ে গোল করে বেশ বড় এক বলের মতো বাসা তৈরি করে থাকে। মাঝখানে একটা ছিদ্র থাকে। যে ছিদ্র দিয়ে এরা অনায়াসে আসা-যাওয়া করতে পারে। ডিম দেয় দুই থেকে তিনটি এবং জুলাই বা আগস্টে ডিম ফুটে ছানা বের হয়ে আসে। সাধারণত মাটিতে, ঝোপে-জঙ্গলে বিচরণ করে কীট-পতঙ্গ জাতীয় খাবার খায়। বৃষ্টি এই পাখির জন্য ভীষণ দরকার। কারণ বৃষ্টিতে জঙ্গলের নিচে যেখানে পচা পাতা থাকে সেখানেই তার খাবার (অনেক পোকা ও কেঁচো) তৈরি হয়। কেঁচো ও নানা ধরণের পোকা-মাকড় খেতে এই পাখি খুব পছন্দ করে।

২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষ বইয়ে আকারে ছোটখাটো শুমচা পাখিকে বাংলাদেশে দুর্লভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আর্ন্তজাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা (আইইউসিএন) এটিকে সারা বিশ্বে ন্যূনতম বিপদ্গ্রস্থ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শুমচা প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য এই পাখিটিকে টিকিয়ে রাখতে হবে।