দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন সিনেমাহল মালিকরা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২০:১৭

তানভীর তারেক

 

ক্রমাগত বন্ধ হচ্ছে সিনেমাহল। এদিকে সিনেমার বিকল্প ব্যবসা নিয়েও ভাবছে না সিনেমা সংগঠনগুলো। গত ঈদে সর্বসাকুল্যে সিনেমা খুলেছিল ১১০টি। সেটি এখন ২৬ টি সিনেমা হলে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে সিনেমা হলশূন্য বাংলাদেশ হতে বেশি সময় লাগবে না। সর্বশেষ ঐতিহ্যবাহী মধুমিতাসহ বড় বড় সিনেমাহলগুলো বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত যেন হতাশার শেষ পেরেকের মতো।

গত ১৯ জুন ঢাকার ফার্মগেটে ‘আনন্দ’ ও ‘ছন্দ’ সিনেমা হল চালু রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। ফলে ‘মধুমিতা’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমাহল খোলার যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সিনেমা হল খোলার বিষয়ে আপত্তি থাকলেও ঢাকায় স্টার সিনেপ্লেক্সে, ব্লকবাস্টার খোলা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে সেখানে।

ছন্দ ও আনন্দ সিনেমা হলের জেনারেল ম্যানেজার মো. শামসুদ্দিন বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর সিনেমা হল বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা পাইনি। সেই কারণে সিনেমা হল খোলা রেখেছিলাম। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সিনেমা হল খোলা রেখেছি। আমাদের দুটি সিনেমা হলের আসন প্রায় দেড় হাজার। প্রতিদিন প্রতি শোয়ে সাকুল্যে ৫০ থেকে ৭০টি টিকিট বিক্রি হতো।’

‘আর স্বাস্থ্যবিধির কথা যদি বলেন, আমাদের সিনেমা হলের সামনে প্রতিদিন গানের আসর বসে। যতজন সিনেমা দেখে তার চেয়ে চারগুণ বেশি মানুষ সেখানে থাকে। ফার্মগেটে হলের সামনে দিয়ে বাস চলাচল হতে দেখি, সেখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। আমরা আলাদাভাবে সিনেমাহল বন্ধের কোনো প্রজ্ঞাপন পাইনি। যেটা গতবার পেয়েছিলাম। আমাদের সিনেমা হলকে তাহলে কেন জরিমানা করা হলো বুঝতে পারছি না।’—বলেন তিনি।

শামসুদ্দিন আরো বলেন, ‘আমাদের মতো দেশের সব সিনেমাহল খুব খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সিনেমাহল খোলা রাখলে সবকিছু মিলিয়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এই টাকাও এখন ওঠে না, আমরা আশায় ছিলাম, আগামীতে সবকিছু ঠিকঠাক হবে। এরইমধ্যে সোমবার বকেয়ার কারণে সিনেমা হলের বিদ্যুত্ লাইন কেটে দিয়েছে। পানির বিল বাকি পড়ে আছে। ট্যাক্স দিতে হয়। কয়েকজন কর্মী পেশা বদল করেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না। আমাদের একজন সিনেমাহলের এক কর্মী গতকাল বলছিলেন, কোথায় কিডনি বিক্রি করতে হয় বলেন, আমি বিক্রি করবো। তার বাসা ভাড়া, বিদ্যুত্ বিল বকেয়া হয়েছে ১ বছরের মতো। পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। এই দুঃসময়ে সিনেমার সব সংগঠনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে আসা উচিত। না হলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’