কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
কালাই উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক জুড়ে দুই পাশে ধানের খড়ের স্তূপ রাখা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যস্ততম সড়ক দখল করে স্থানীয় কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে ধান শুকানোর কাজ শেষে দুই পাশে সারি সারি করে খড় স্তূপ করে রেখেছেন। এর ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলছে। পথচারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার মাত্রাই থেকে হাতিয়র পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক এবং বৈরাগীরহাট থেকে কুশুমসাড়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে দুই পাশে সারি সারি খড়ের স্তূপ রয়েছে। খেত থেকে ধান কেটে এনে সড়কের ওপর দখল করে প্রতি বছর বোরো ধান মাড়াই, ধান পরিষ্কার, ধান ও খড় শুকানোর কাজ করেন কৃষকরা। খড় শুকানোর কাজ শেষে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন যাবত্ সারি সারি করে স্তূপ করে রাখেন। দুই পাশে খড় রাখার কারণে সড়কগুলো এখন সরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে খড়কুটোগুলো বাতাসে উড়ে এসে পথচারীদের চোখেমুখে ও নাকে পড়ছে। একটু বৃষ্টির পানিতে খড়গুলো ভিজে পচে গিয়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে থাকে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার মাত্রাই গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, ‘এ মৌসুমে মাত্রাই থেকে হাতিয়র পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কে দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে সারি করে খড়ের স্তূপ রাখার ফলে সড়ক সরু হয়ে গেছে। এতে মোটরসাইকেল চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। গত বছর বাড়ি থেকে কালাই সদরে যাওয়ার পথে সড়কের ওপরে খড়ের স্তূপের কারণে আমি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম।’
মাত্রাই-কালাইয়ের আঞ্চলিক সড়কের অটোভ্যান চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সড়কের ওপরে শুকনো খড়ের স্তূপ করে রাখার কারণে একটি অটোরিকশা নছিমনকে সাইড দিতে দেরি করায় নছিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খড়ের স্তূপের মধ্যে ঢুকে যায়। এতে অল্পের জন্য যাত্রীদের কোনো হতাহত ঘটেনি।’ মাত্রাই-কালাইয়ের সড়কের ওপরে খড়ের স্তূপ করে রেখেছেন উপজেলার ভেরেন্ডী গ্রামের কৃষক আজিজ ও তার স্ত্রী বুলবুলি। তারা বলেন, ‘উত্পাদিত ফসলের কাজের জন্য আগের মতো আমাদের উঠান অনেক ছোট হয়ে গেছে। এই জন্য জমির ধান একসঙ্গে এনে ধান মাড়াই, খড় শুকানো ও খড় রাখা অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লীলিমা জাহান বলেন, ‘আমি দেখেছি অন্যান্য উপজেলা কৃষকদের উঠান আছে। এই উপজেলায় কৃষকদের কৃষি কাজের জন্য উঠান নেই বললেই চলে। কৃষকরা মাটির বাড়ি থেকে ইটের বাড়ি করছেন। কিন্তু তারা উঠান রাখতে চায় না। সড়কের ওপরে এ ধরনের কাজ করা তাদের পক্ষে শোভা পায় না।’
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট টুকটুক তালুকদার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি সড়ক জনসাধারণের চলাচলের জন্য, অন্য কোনো কাজের জন্য নয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। আর সড়কের ওপরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি।’
