এখন গ্রামেও করোনার সংক্রমণ বাড়ছে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২০:৫৯

ইত্তেফাক ডেস্ক

এখন গ্রামেও করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন দেওয়া হলেও বিধিনিষেধ মানছে না অনেকে। সড়কেও যানবাহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

খুলনা :খুলনায় লকডাউনের মধ্যেও মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে। লকডাউনের প্রথম দিন কঠোরভাবে পালনের কথা থাকলেও গতকাল বুধবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও মানুষের চলাচল ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেঁধে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, ‘রাস্তায় দেখতে এসেছি কেমন লকডাউন হচ্ছে।’ শফিকুল ইসলাম নামের অপর একজন বলেন, ‘ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগে না, তাই একটু রাস্তা থেকে ঘুরে যাচ্ছি।’

লালমনিরহাট :বুধবার বিকেলে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে সাত দিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সভায় লালমনিরহাট জেলার সার্বিক করোনা পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলা হয়, জেলায় ৭ হাজার ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩১১। আক্রান্তের হার ১৯ দশমিক ২২।

নাটোর :করোনা ভাইরাসের কারণে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫। তা ছাড়া ২৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে আরো ১০২ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার ৩৭ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৯৯৯। এদিকে করোনা ভাইরাস শনাক্তের মাত্রা বেশি হওয়ায় জেলায় লকডাউনের পরিধি তৃতীয় দফা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে শুধু নাটোর সদর ও সিংড়া পৌরসভা লকডাউনের আওতাধীন থাকলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় তা সাত দিন বাড়িয়ে ২৯ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছে। নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, লকডাউন কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যামাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। পৌর এলাকার প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড় এলাকায় প্রশাসনিক তত্পরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব না মানলে অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ :গতকাল বুধবার শহিদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৩৩ জনের নমুনা  সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ হয়। মঙ্গলবার ১৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে ৩৬ জনের করোনা পজিটিভ আসে। এ নিয়ে দুই দিনে ৬৭ জনের করোনা ধরা পড়ে। তবে জেলার কোথাও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর নিশ্চিত করেন।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) :গত তিন দিনে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এ উপজেলায় এক নারীসহ আট জন মারা গেছেন। এ অবস্থার মধ্যে উপজেলা করোনা প্রতিরোধসংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে ১৪ দিনের লকডাউন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চুয়াডঙ্গা জেলা প্রশাসন। বুধবার থেকে এই লকডাউন শুরু হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও :করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে। বুধবার দুপুরে করোনা প্রতিরোধ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান এক সভায় এ ঘোষণা দিয়েছেন।