জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান চায় চট্টলাবাসী

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০১:০১

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হলো হাজারো লোকের জীবন-জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষের ব্যস্ত শহর। জলাবদ্ধতা যেন এখানকার বর্ষা মৌসুমের নিত্যকার ব্যাপার। বর্ষার আগমনী বার্তাতে একদিনের টানা বৃষ্টিতে যেখানে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছিলো, সেখানে পুরো মৌসুমে ঠিক কী অবস্থা হতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। জলাবদ্ধতার দায় থেকে যেন কোন ক্রমেই নিস্তার পাচ্ছে না নগরবাসী। টানা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় নগরীর রাস্তাঘাট, দোকানপাট, হাসপাতাল, ভবনসহ নিচু এলাকা। সেই সাথে জলজট হওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। যানবাহনের ইঞ্জিন বিকল হলে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট ও জলজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী ও চালকদের। এছাড়া পথচারীদের রাস্তার পাশে খোলা নালা-ড্রেনে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে অহরহ। সেই সাথে খোলা নালা-ড্রেনে যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়। পানিবন্দি নগরবাসীর যেন দুর্ভোগের অন্ত নেই। অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা, সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব, খাল ভরাট, অনুন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম প্রভৃতি কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। প্রতিবছর এমন পরিস্থিতিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ও কিছুটা তত্পর হন। কিন্তু সীমিত সময় পরে তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। আর জলাবদ্ধতার স্থায়ী নিরসন হয় না। একের পর এক নগরীর অভিভাবক পরিবর্তন হলেও নগরবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনও। একনেক অনুমোদিত মেগা প্রকল্প চলমানাধীন থাকলেও তার কোনো সুফল নগরবাসী এখনো পর্যন্ত পায় নি। প্রতি বছরই ভারী বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার যে চরম দুর্ভোগ নগরবাসীকে পোহাতে হয় সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী জলবদ্ধতার নিরসন চাই নগরবাসী।

নুর-ই-সালমা লামিয়া, চট্টগ্রাম