আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সংলাপে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নারী কমিশন গঠন ও জেন্ডারভিত্তিক জাতীয় বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এই সময়ে মানুষ টিকে থাকতে যেখানে শুধু করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছে, সেখানে আদিবাসী নারীরা করোনার পাশাপাশি সহিংসতা (ধর্ষণ, হত্যা) এবং রাজনৈতিক ও আর্থ- সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে সংগ্রাম করছে। নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ার কারণ ভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যই দায়ী। মঙ্গলবার ‘কোভিডকালীন আদিবাসী নারীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ বিষয়ে জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। কাপেং ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক এই সংলাপের আয়োজন করে।
সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ করে সমতলের আদিবাসীরা অনেক অবদান রেখেছেন। আদিবাসীদের কথা তুলে ধরার জন্য প্রশাসনে আদিবাসী নারীদের থাকা অনেক জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সংলাপের ওপর ভিত্তি করে আদিবাসী নারীদের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বিভিন্ন নীতি প্রণয়নবিষয়ক নীতিপ্রণেতা, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নমিতা হালদার বিআইডব্লিউএনের অঞ্চলভিত্তিক শাখা গঠন করে ভুক্তভোগীকে সহায়তাসহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য মিতা হাজং মূল প্রবন্ধে জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন, জাতীয় নীতিমালাসহ অন্য নীতিমালা গ্রহণের সময় নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন।
সংলাপে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আদিবাসী নারী নেটওয়াকের্র সদস্য হেলেনা তালাং। আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরার সঞ্চালনায় এবং নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব চঞ্চনা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অতিথি সংসদ সদস্য ও আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা, টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি বিভাগের পরিচালক জনা গোস্বামী, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং ও সাংবাদিক জাইমা ইসলাম প্রমুখ।
