কালোটাকা সাদার বিষয়ে জানতে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে ----------------- অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২২:২৬

আগামী অর্থবছর কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে কি না, সে বিষয়ে জানতে হলে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, আমরা অর্থ বিল সংসদে পাশ করব ২৯ তারিখ, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এবার বাজেট প্রস্তাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগের বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকলেও বাজেট পাশের সময়ে এ সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বাজেট পাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, মামলা চলমান। এ পর্যায়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ভারত থেকে টিকা না আসায় ভারত টাকা ফেরত দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা টিকা দিতে না পারলে অবশ্যই টাকা ফেরত দেবে। এটা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানে। তারা এটা দেখভাল করছে। করোনার সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয়েছে। এসব কেনাকাটায় নানা অনিয়মের অভিযোগ আসছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি তদারকির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। তারা নিজেরাই কেনাকাটা করতে পারেন।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক উত্পাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) প্রণোদনার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় চাচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো আবেদন আসেনি। এলে দেখব, কী করা যায়। তবে এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখেন।

আগামী অর্থবছরে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ঊর্ধ্বমুখী উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ অনেক, চ্যালেঞ্জ নেই তা বলব না। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় সুযোগ হিসেবে চিন্তা করি। আমরা মনে করি আমাদের অপরচুনিটিও বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছি। আমাদের রাজস্ব অর্জন ছিল প্রধান সমস্যা। এর পরেও রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ। রিজার্ভের পরিমাণও ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই করছে, এ মাসেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার, গত বছর ১৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট ঘাটতি এ বছর পৃথিবীর সব দেশই অনুসরণ করছে। আমরা যে কাজটি গত বছর করেছিলাম, প্রথমেই আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। আমরা জনগণের কাছে টাকার জোগান দিয়েছি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এতে সবাই অন্তত খাবার পেয়েছে, মোটামুটিভাবে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে  পেরেছে। এজন্য আমি বলি বাজেটে ঘাটতি আমাদের একার নয়, সবার। জাতিসংঘের মহাসচিব প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে এ বিষয়টি সাংঘর্ষিক না হয়। আমরা সেটিই অনুসরণ করেছি তা বলব না, অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়ে সেই কাজটি শুরু করেছেন এ দেশে। বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। আমেরিকার বাজেট ঘাটতি ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, ভারতের ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, জাপানের ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, চায়নার ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ধনী অথবা ধনী নয়, উন্নয়নশীল অথবা উন্নত দেশের সবাই কিন্তু এ বাজেট ঘাটতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।