৬ কোটির বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২২:২৭

জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় দেশে ৬ কোটির বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র অবস্থায় রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। দারিদ্র্যের এই নতুন হিসাবে দেশে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে ২০২১ সালে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৩ লাখে। এ হিসাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সংখ্যা ৬ কোটি ১১ লাখে।

 ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য সোশ্যাল পলিসিজ ফর চিলড্রেন অন এ মিডল ইনকাম ইকোনমি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সূচকে (এন-এমপিআই) এবং বহুমাত্রিক শিশু দরিদ্রসূচক (সি-এমপিআই) প্রতিবেদনটি তৈরিতে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ এবং অক্সফোর্ড প্রভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। প্রতিবেদনটির খসড়া নিয়ে গতকাল বুধবার পরিকল্পনা কমিশনে              একটি পরামর্শক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা সূত্রে জানা যায়, এই প্রতিবেদনটি এখনো খসড়া আকারে রয়েছে। কারিগরি পরামর্শের পর পূর্ণাঙ্গ আকারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ দরিদ্র মানুষের অবস্থান পল্লি অঞ্চলে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ বসবাস করে গ্রামে। এ হিসাবে মোট দরিদ্রের সংখ্যা গ্রামেই বেশি। কম বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

খসড়া প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ খানাই বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগকে দারিদ্র্যের নতুন পকেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান জেলা সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্রের শিকার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল বিভাগের ভোলায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার ৬২ শতাংশ। আর ৬১ শতাংশ দারিদ্র্য নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ। এছাড়া বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের তালিকায় ওপরের দিকে থাকা জেলার মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজার (৫৭ শতাংশ), হবিগঞ্জ (৫৫ শতাংশ), কুড়িগ্রাম (৫৪ শতাংশ), নেত্রকোনা (৫২ শতাংশ) ও খাগড়াছড়ি (৫১ শতাংশ)।