খুলনা ও রাজশাহীতে করোনায় মৃত্যু বাড়ছেই

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২২:৩৩

খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ দুই বিভাগে রেকর্ড ৫০ জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৭৫০ জনের এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেছেন, ‘পরিস্থিতি এখন আমাদের আর নিয়ন্ত্রণে নেই। এখন রাজশাহীর ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। লকডাউন দিয়েও ফল মিলছে না।’ খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও অফিসের।

খুলনা : খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ৯০৩ জন। গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ আট জন, ঝিনাইদহে সাত জন, চুয়াডাঙ্গায় পাঁচ জন, কুষ্টিয়ায় চার জন, যশোরে এক জন, বাগেরহাটে তিন জন, সাতক্ষীরায় এক জন, নড়াইলে এক জন এবং মেহেরপুরে দুই জন মারা গেছেন। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৭৮ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৬ জনে। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ হাজার ১৭৫ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন আট জন এবং শনাক্ত হয়েছে ৩০৫ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫৬৯ জনের। মারা গেছে ২২৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ২২৭ জন।

বাগেরহাটে নতুন শনাক্ত ৬০ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৫২ জন। মারা গেছে ৭৩ জন। সাতক্ষীরায় নতুন শনাক্ত ৬০ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত ৩ হাজার ৬২ জন এবং মারা গেছে ৬৩ জন। যশোরে নতুন শনাক্ত ১২১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত ১০ হাজার ১৫৯ জন। মারা গেছে ১১৪ জন। ঝিনাইদহে নতুন শনাক্ত ১১৭ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত ৩ হাজার ৬৩৮ জন। মারা গেছে ৭৫ জন। মাগুরায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত ১ হাজার ৪২১ জন। মারা গেছে ২৫ জন। নড়াইলে নতুন শনাক্ত ১৯ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত ২ হাজার ৩৭১ জন। মারা গেছে ৩৬ জন। কুষ্টিয়ায় শনাক্ত ১২২ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত ৬ হাজার ৬৬২ জন। মারা গেছে ১৬৬ জন। চুয়াডাঙ্গায় নতুন শনাক্ত ৬৪ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত ২ হাজার ৭৯৬ জন। মারা গেছে ৭৯ জন। মেহেরপুরে নতুন শনাক্ত ৩৫ জন। এ নিয়ে জেলায়                মোট শনাক্ত ১ হাজার ৪৪৮ জন। মারা গেছে ৩৭ জন।

খুলনায় অপ্রয়োজনে মানুষ বাইরে বের হচ্ছে :খুলনায় লকডাউনের মধ্যেও মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে। লকডাউনের প্রথম দিন কঠোরভাবে পালিত হলেও গতকাল বুধবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও মানুষের চলাচল ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেঁধে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহী বিভাগে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা বিভাগে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। আগের দিন মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এর আগে ১৫ জুন ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৪ হাজার ৬৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। বুধবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমা আক্তার এসব তথ্য জানান।

রাজশাহীতে ঘরে ঘরে সংক্রমণ :সর্বাত্মক ‘লকডাউনের’ পরেও রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর মিছিলও কমছে না। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ এই হাসপাতালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওয়ার্ড এবং পুরো আইসিইউ করোনা ইউনিটে রূপান্তর করেও করোনা ইউনিটে শয্যার তুলনায় রোগী অনেক বেশি। এদিকে ১ হাজার ২০০ শয্যার রামেক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিত্সাধীন ৪০০র বেশি করোনা রোগীর চিকিত্সায় সাধারণ রোগের চিকিত্সাব্যবস্থা পড়েছে ঝুঁকির মুখে। অন্যদিকে এ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সাধারণ রোগীদের মধ্যেও করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিকে ভয়ংকর হিসেবে দেখছেন চিকিত্সক ও  সংশ্লিষ্টরা।