আওয়ামী লীগ হীরার টুকরো ভাঙলে আরো জ্বলজ্বল করে

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০০:৩৫

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ হীরার টুকরো, যতবার ভেঙেছে আরো জ্বলজ্বল করেছে, নতুনভাবে জ্যোতি ছড়িয়েছে। যতবার আঘাত এসেছে, ততবার আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ গতকাল বুধবার ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ও চিন্তা, সেটা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। সেটাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সৃষ্টি হয়, তখন থেকেই মুসলিম লীগ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়া প্রত্যেকে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। কত মানুষকে তারা হত্যা করেছেন? লক্ষ্য একটাই আওয়ামী লীগকে শেষ করা।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভেতরের লোকরাও দলের ক্ষতি করেছে। বহুবার আওয়ামী লীগ ভেঙেছে। মওলানা ভাসানি, ড. কামাল হোসেন, আবদুর রাজ্জাকরা চলে গিয়ে নতুন দল করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তো হীরার টুকরো, যতবার ভেঙেছে আরো জ্বলজ্বল করেছে, নতুনভাবে জ্যোতি ছড়িয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সব দিক থেকে উন্নতি করেছে। আজকে বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। এজন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি। সুযোগ পেয়েছি বলেই দেশকে সাজানোর সুযোগ হয়েছে।’

টিকা নিয়ে যারা সমালোচনা করেন, তাদের পরিস্থিতি দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেটা চার ডলারে কিনেছি, সেটা ১৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। সামনে হয়তো আরো দাম বাড়বে। আমরা আগেই টাকা দিয়ে সব ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিক বিষয়, আমাদের হাতে না। ভবিষ্যতে গবেষণা করে টিকা তৈরির জন্য সব প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ফার্মাসিউটিক্যাল দরকার, ইনস্টিটিউট তৈরি করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা নেওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। দ্বিতীয় ধাক্কা আরো ব্যাপক ও খারাপভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা সতর্ক থাকলে এ অবস্থা থেকেও উত্তরণ ঘটাতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তৃতা করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, উত্তরের সভাপতি বজলুর রহমান প্রমুখ।