ভারত থেকে চাল আমদানিসহ ১৬ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০০:৩৮

ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানিসহ ১৬ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি টন ৩৯৯.৯০ ডলার হিসেবে সর্বমোট ১ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার (১৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা)। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুটি প্রস্তাব এবং ক্রয় কমিটির সভায় ১৬টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত প্রস্তাবের মধ্যে পেট্রোবাংলা কর্তৃক স্পট মার্কেট হতে এলএনজি আমদানি করার লক্ষ্যে আরো চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাপানের ইটোচু করপোরেশন, গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লি. শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লি. দুবাই গ্যাস এবং টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লি. ইউকের সঙ্গে মাস্টার শেল অ্যান্ড পারচেজ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া টিসিবি কর্তৃক আরো দুই বছর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিসিবি কর্তৃক রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী যেমন :পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, মসলা-শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি, লবণ ইত্যাদি আমদানি বা স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা আগামী দুই বছর (২৬/০৫/২০২৩ পর্যন্ত) বৃদ্ধির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুত্ বিভাগের ১০টি প্রস্তাব রয়েছে। অতিরিক্ত সচিব জানান, ঢাকা ওয়াসার ‘সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)’ এর কম্পোনেন্ট-১ এবং ৩-এর বাস্তবায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বনিম্ন দরদাতা যৌথভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা কাজ করতে অসম্মতি জানালে দরপত্রে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) মুট ম্যাকডোনাল্ড লিমিটেড (২) ইউরো কনসালট্যান্ট মুট ম্যাকডোনাল্ড আরটেলিয়া সুইকো ডেনমার্ক (৩) অ্যাকুয়া কনসালট্যান্টস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড (৪) অ্যাসোসিয়েটস ফর ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডকে ১৬৯ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। অতিরিক্ত সচিব জানান, সভায় ‘র্যাব-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ‘জিএসএম ইউএমটিএস ভেহিকুলার অ্যাকটিভ সাপোর্ট সিস্টেম ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। থ্রিসিক্সটি কেনোলজিস সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়। এতে ব্যয় হবে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কমিটি ক্রয় প্রস্তাবটিতে অনুমোদন দিয়েছে।