১০ ই-কমার্সে কেনাকাটায় ব্র্যাক ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০০:৩৮

ইভ্যালি ও আলেশা মার্টসহ ১০টি ই-কমার্স সাইট থেকে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব অনলাইন মার্কেট প্লেস-এর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন্স ইকরামুল কবীর। তিনি বলেন, সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আলাদিনের প্রদীপ, কিউকম, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপিং, আদিয়ান মার্ট, বুম বুম, নিডস ডট কম বিডি ও ধামাকা শপিং।

জানা গেছে, বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছ থেকে কয়েক মাসের অগ্রিম টাকা সংগ্রহ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য সরবরাহ করতে আরো বেশি সময় নিয়ে থাকে। প্রায়ই তারা ক্রেতাদের জানিয়ে দেয় তাদের অর্ডার করা পণ্যগুলো শেষ হয়ে গেছে। তাই সেটা পাঠানো সম্ভব নয়। আবার পণ্য দিতে ব্যর্থ হলে ক্রেতারা তাদের টাকা ফেরত পান না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংকও। সব বিষয় বিবেচনা করেই ব্র্যাক ব্যাংক কৌশলগত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ইকরামুল কবীর।

মূলত, ই-কমার্স কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম চালুর পর থেকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে ইভ্যালি। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন আছে। আকর্ষণীয় অফারে গ্রাহকরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাদের সাইটে। ইভ্যালির সাইক্লোন, আর্থকোয়েক প্রভৃতি নামে যেসব অফার দেয় তেমনি অফার দেওয়া শুরু করেছে অন্যান্য অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি যখন এমন তখন এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ঐ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইভ্যালির কাছে গ্রাহক ও মার্চেন্টরা ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাবে। আর প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে চলতি সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ইভ্যালিতে এখন যেভাবে মানুষ অর্ডার দিচ্ছে তাতে দিনে দিনে দেনা বাড়ছে।