সাত জেলায় লকডাউনের দ্বিতীয় দিন

কর্মজীবনের ভোগান্তি চরমে

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০০:৩৮

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঢাকার আশপাশের সাত জেলায় লকডাউন চলছে। গতকাল বুধবার ছিল লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। লকডাউনে দুর্ভোগ বেড়েছে কর্মজীবী মানুষের। রাজধানীর প্রবেশদ্বারের সব পয়েন্টে অবস্থান করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কর্মজীবীদের পায়ে হেঁটে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এমনকি চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। এদিকে ঢাকার বাইরের জেলায় চলা লকডাউনেও দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। গন্তব্যে যেতে তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। ঢাকা থেকে কোনো ধরনের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছে না। হঠাত্ এই যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

গত রবিবার পাবনা থেকে চিকিত্সার জন্য ঢাকায় এসেছেন শাহানা পারভীন। তিনি স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ধানমন্ডির শুক্রাবাদে ভাগনির বাসায় ওঠেন। চিকিত্সা শেষে বাড়ি ফিরতে গাবতলীতে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।  শাহানা পারভিন  বলেন, ‘তিন দিন আগে ঢাকায় এসেছি ডাক্তার দেখাতে। এখন বাড়ি ফিরে যাব, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছি না। এখন আমার বাড়ি যাওয়া খুবই জরুরি, কিন্তু গাবতলীতে এসে গণপরিবহন না পেয়ে বিপদে পড়েছি।’

এদিকে অসুস্থ শাশুড়ির চিকিত্সার জন্য টাঙ্গাইল থেকে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন নিকুঞ্জ। হাসপাতালে শাশুড়িকে ভর্তি করিয়ে আবার বাড়ি ফিরতে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন তিনি। 

নিকুঞ্জ বলেন, ‘শাশুড়িকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করেছি। জরুরি প্রয়োজনে আবার টাঙ্গাইলে ফিরতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও আমাকে ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরতে হবে।’

গাবতলীতে দায়িত্বরত দারুস সালাম জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট মির্জা মো. জহিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘গণপরিবহন ঢাকার বাইরে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। যেসব প্রাইভেট কার আইন অমান্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালবাহী গাড়িতে মানুষ ঢাকার বাইরে যাচ্ছে না। মানুষ এখন অনেক সচেতন। সরকারি আদেশ অমান্য করায় একটি প্রাইভেট কারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উত্তরার আবদুল্লাহপুর এলাকায় সকালের দিকে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে বাসে উঠতে পারেননি। অনেকক্ষণ পর পর যা-ও একটা বাস আসছে, তাতে উঠতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে অফিসগামীদের। যারা বাসে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন, তারা অনেকে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সিটের দ্বিগুণেরও বেশি যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে কোনো কোনো বাসে। আবার অনেকে দীর্ঘ সময় বাস না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হন। এ ছাড়া আবদুল্লাহপুর পয়েন্টে বাস ঘুরিয়ে দেওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বনানী, মালিবাগ ও নিউমার্কেট এলাকায় খোঁজ নিয়ে বাসের সংকটের খবর পাওয়া গেছে।