মহামারির মধ্যেও বিশ্ব জুড়ে ৫২ লাখ নতুন মিলিওনার

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০০:৩৯

কোভিড-১৯ মহামারিতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও গত বছর বিশ্ব জুড়ে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ মিলিওনারের তালিকায় নাম তুলেছে। মহামারিতে অনেক দরিদ্র যখন আরোও দরিদ্র হচ্ছে, তখন বিশ্ব জুড়ে মিলিওনারের সংখ্যা ৫২ লাখ বেড়ে মোট ৫ কোটি ৬১ লাখে দাঁড়িয়েছে বলে ক্রেডিট সুইচের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব জুড়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ১ শতাংশের বেশি মিলিয়নেয়ার হয়েছে।

শেয়ার বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো এবং বাড়ির দামবৃদ্ধি তাদের সম্পদ বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। মহামারিতে অর্থনীতির বেহাল দশার সঙ্গে সম্পদ সৃষ্টির সম্পর্ক ‘পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন’ বলেও মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। অর্থনীতিবিদ ও গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্টেও লেখক অ্যান্থনি সরোকস জানান, মহামারি বিশ্ববাজারে স্বল্পমেয়াদে তীব্র প্রভাব ফেললেও ২০২০ সালের জুনের শেষ থেকে এ চিত্র মোটা দাগে উলটে যেতে থাকে। তিনি বলেন, ‘এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মুখেও বৈশ্বিক সম্পদ কেবল স্থিতিশীলই ছিল না বরং বছরের দ্বিতীয় ভাগে তা হু হু করে বাড়তে থাকে।’ তবে এ সত্ত্বেও ২০২০ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান আরো বিস্তৃত হয়েছে।

সরোকস বলেছেন, বাড়ির দামবৃদ্ধির মতো সম্পদের মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ যদি মূল্যায়ন থেকে বাদ দিতে হয় তাহলে ‘বৈশ্বিক পারিবারিক সম্পদ সম্ভবত অনেকখানি কমে যাবে’। তিনি আরো বলেন, ‘কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো এক সময় সুদের হার আবার বাড়তে শুরু করবে, যা সম্পদের মূল্য কমিয়ে আনবে।’

প্রতিবেদনে মোট বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২১ শতকের শুরুর দিকে যত মানুষের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে ছিল, এখন তার তিন গুণেরও বেশি মানুষের এমন সম্পদ হয়েছে। তাদের হিসাবে ২০০০ সালে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে সম্পদ ছিল ৫০ কোটি ৭০ লাখ মানুষের; ২০২০ সালের মাঝামাঝি এমন সম্পদধারী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি। উদীয়মান অর্থনীতি বিশেষত চীনের ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তৃতির কারণে সম্পদধারীদের এ সংখ্যা বেড়েছে বলে গবেষকরা দাবি করছেন।