বঙ্গবন্ধু,
তুমি বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলার সিংহপুরুষ
শালপ্রাংশু হিমালয়, তুমি বিশ্বের বিস্ময়।
হাজার বছরের অন্ধকারে এক অবাক আলোর অভ্যুদয়
অমর, অক্ষয়, নিষ্করুণ জীবনের হিরণ্ময় জ্যোতি।
অভিজাত্যের মহিমায় হূদয় তোমার মহাসমুদ্র
মহান সৃষ্টিকর্তা তোমার ইনশাল্লাহ স্মরণে
সাড়া দিয়েছিলেন বাংলার মুক্তি ও স্বাধীনতায়।
তোমার বজ্রহুংকার বিদীর্ণ করেছিল
পাকিস্তানি তখত, স্বাধীন হয়েছি আমরা
তুমি জাতির পিতা, অনন্তকালের দীপমশাল।
বঙ্গবন্ধু,
তোমার রাজনীতির গুরু গণতন্ত্রের মানসপুত্র
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আদর্শ
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক,
গান্ধী-রবীন্দ্র-নজরুল।
তোমার দেহমনে তাই ত্যাগ ও তিতিক্ষার
বিপুল উন্মাদনা জেলহাজত তোমার
নিত্যসঙ্গী, তুমি অনন্য মহিরুহ নির্ভীক
দুর্জয় তুমি দুঃসাহসী।
তুমি বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে,
তুমি বাংলার মুক্তি সনদের ছয় দফায়,
সত্তরের নির্বাচনের একচ্ছত্র অধিপতি তুমি;
তোমার অবিসংবাদিত জয় তবু পেল না
অধিকার, এলো ভয়াবহ একাত্তর।
আইয়ুব-ইয়াহিয়ার রক্তচক্ষু তোমাকে
করে তোলে আরো রুদ্র বিক্ষিপ্ত। তোমার
কঠিন নির্দেশ—‘আমি যদি হুকুম
দেবার নাও পারি সংগ্রাম চলবে—
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
বঙ্গবন্ধু,
তুমি বাংলার ভাষাকে নিয়ে গেছ জাতিসংঘে
বিশ্বের দরবারে করেছ সম্মানিত।
তুমি বাঙালির ধ্রুবতারা, হূদয়ের বাতিঘর।
অনন্য তোমার কণ্ঠস্বর।
তুমি কবি, মহাকবি, মহামনের হূদয়ের সিংহদুয়ারে
তোমার অভ্যর্থনা হাজারো রক্ত গোলাপ
আর কাঁঠালচাঁপায়।
তুমি বাংলার বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার।
বঙ্গবন্ধু,
সারাটা জীবন তোমার হাজারো মিথ্যা
মামলা ফাঁসির কাষ্ঠ, আগরতলা ষড়যন্ত্র
শরবিদ্ধ—এ যেন ভাগ্যের নির্মম পরিহাস!
তবু তো তুমি থেমে থাকোনি কখনো।
বীরোচিত ভাবনায় বলাকার উন্মুক্ত ডানায় এঁকেছ
এদেশের বিজয়-তোমার স্বপ্নের স্বাধীনতা।
বারুদ দহনে তোমার চিত্ত জেগে ওঠে বারবার হিরন্ময় প্রত্যয়।
বঙ্গবন্ধু,
তোমার জীবন মহিমান্বিত বিজয় ও সংগ্রামের
এক বিয়োগান্ত নাটক।
বিপথগামী ঘাতকেরা তোমাকে সপরিবারে হত্যা করেছে—
তাই বলে তুমি হারিয়ে যাওনি।
তুমি আছ হূদয়ে, হূদয়ে, আকাশে বাতাসে,
আমাদের জাতীয় পতাকায়—লক্ষ লক্ষ মুজিবসেনা
তোমার নামের উদ্বেলিত ছায়াতলে
বেড়ে উঠেবে নিত্যদিন।
তুমি বাংলার সিংহগর্জন, তুমি নজরুলের
বিদ্রোহী কবিতা, রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা।
তোমার প্রেরণা, দৃঢপ্রতিজ্ঞ চিত্তের আহ্বানে মাত্র
নয় মাসে বাঙালি তাড়িয়েছে দখলদার পাক সেনা।
বঙ্গবন্ধু,
তুমি থামিয়েছ উত্পীড়িতের ক্রন্দনরোল
স্তব্ধ করেছ অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ।
তুমি বাঙালির হিন্দু-মুসলিমের মহান নেতা। মুজিব দিশা—অন্যায়ের বিরুদ্ধে
তুমি বিদ্রোহীর চির উন্নত শির।
তোমার জন্য লড়াই, তোমার জন্য
অভিবাদন, অনন্ত বন্দনা জয়গান অনন্তকাল।
