কানসাটে আমের মণ ৫০ কেজিতে!

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ২২:০৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড় আম বাজার কানসাটে ৫০ কেজিতে মণ হিসেবে আম কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আড়তদারদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আমচাষিদের।

আমচাষিরা বলছেন, করোনার কারণে একে আমের দাম কম, অন্যদিকে ৪০ কেজিতে মণ হওয়ার কথা থাকলেও আড়তদাররা এক মণে ৫০ কেজি আম নিচ্ছেন। কানসাট বাজারে আম নিয়ে আসা হাকিম নামে এক আমচাষি জানালেন, এক ভ্যান গুটি জাতের আম নিয়ে কানসাট বাজারে আসছিলাম বাপু। বিক্রি করেছি ৩৫০ টাকা মণ দরে। ওজন করার পরে জানতে পারলাম আমের মণ ৫০ কেজিতে। হিসেব করে পেয়েছি মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকা। এ টাকা দিয়ে ভ্যান ভাড়া দিব না নিজে খাব কহো বাপু। জসিম নামে এক আমচাষি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিক থেকে বসে আছি হিমসাগর আম নিয়ে। নেই কোনো ক্রেতা, দাম বলছেন ১ হাজার ২০০ টাকা মণ। প্রচণ্ড গরমে আর কতক্ষণ বসে থাকব। তাছাড়া আমের মণ ৪০ কেজিতে হওয়ার কথা থাকলেও প্রতি মণে ১০ কেজি আম বেশি নিচ্ছেন আড়তদাররা। আমরা সারা বছর খাব কি? আমরা তো পাঁচ থেকে ছয় কেজি বেশি দিচ্ছি। তিনি আম ওজন করার সময় ৪৫ কেজিতে মণ হিসাব করার দাবি জানান।

তবে আমিনুল নামে এক আড়তদার বলেছেন, আম হচ্ছে কাঁচামাল। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ওজন কমে যায়। এ জন্যই মণে ১০ কেজি আম বেশি নেওয়া হচ্ছে। ৫০ কেজি ওজন নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই নিচ্ছে তাই আমরাও নিচ্ছি। আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক টিপু জানান, কানসাট বাজারে আমের মণ ৪০ কেজিতে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে পৌঁছাতে ওজন কমে যায়, তাই পাঁচ-ছয় কেজি আম বেশি নেওয়া হয়। তবে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণে ৫০ কেজি আম নেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি অবহিত নন বলে জানান।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব আল রাব্বি বলেন, আমের মণ ৪০ কেজির বাইরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।