বাড়িতেই চিকিত্সা নিচ্ছেন অধিকাংশ করোনা রোগী

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ২২:০৫

করোনা সংক্রমণ গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও অল্পসংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। বেশির ভাগ রোগী বাড়িতেই নিচ্ছেন চিকিত্সা। অনেক স্থানে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি জোরদার করতে ট্রাফিক বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের :

ঝিনাইদ :জেলায় করোনায় আক্রান্তদের মাত্র শতকরা ৮ ভাগ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছে। বাকি ৯২ ভাগ বাড়িতে চিকিত্সা নিচ্ছে। হাসপাতালে যুবক বয়সের রোগীরা বেশি ভর্তি হচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, করোনায় আক্রান্তরা ঘরের বাইরে বের হয়ে ঘুরাফেরা করায় সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মাত্র দুটি বেড ফাঁকা আছে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, সব করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব নয়। যাদের অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে শুধু তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের বাড়িতে রেখে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডাক্তাররা চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন।

বগুড়া :করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বগুড়া জেলা প্রশাসন ছয় দিনের লকডাউন ঘোষণা করে। ২৬ জুন পর্যন্ত বগুড়া শহরে এই লকডাউন চলবে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এই লকডাউন মানছে না। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাফেরা করছে। এতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। শহরের বাইরে সবকিছু স্বাভাবিক।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) :ভাণ্ডারিয়ায় বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই দিনে করোনার সংক্রমণ হঠাত্ করে বেড়েছে। ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালের প্যাথোলজিস্ট মমতা রানী হালদার জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ২৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পজিটিভ ধরা পড়ে। এছাড়া বুধবার ১৩ জনের মধ্যে সাত জনের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে এক জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. ননী গোপাল রায় বলেন, হঠাত্ করে বুধ ও বৃহস্পতিবার করোনা পজিটিভের সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তের হার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের হাসপাতালে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বরিশাল :করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে বরিশালের গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি জোরদার করতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ দিনভর অভিযান পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর আমতলার মোড় চেকপোস্টে বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. জাকির হোসেন মজুমদারের নেতৃত্বে এ অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি মানতে গণপরিবহনগুলোর চালক ও যাত্রীদের নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের টি আই আ. রহিম, সার্জেন্ট নজরুল ইসলাম, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাগেরহাট :প্রশাসনের দেওয়া সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ ১৬টি রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাগেরহাট শহরের দোকানপাট, শপিংমল বন্ধ রয়েছে। বাগেরহাটের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি পালনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।’ বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ‘কিছু দিন যাবত্ বাগেরহাটে করোনা পরিস্থিতি আস্তে আস্তে অবনতির দিকে যাচ্ছে। অনেকেই করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক।’

মাদারীপুর :২৪ ঘণ্টায় ৫৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ২২ জুন থেকে মাদারীপুরে লকডাউন শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় মারা গেছে ৩১ জন। এক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ বেড়েই চলছে।

খাগড়াছড়ি :খাগড়াছড়িতে হঠাত্ করে বেড়েছে করোনা রোগী। খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাশ জানান, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এই মাসে এখন পর্যন্ত শনান্তের হার ১২ দশমিক ৬ এবং গত মাসে ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) :নিয়ামতপুরে ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চতুর্থবারের মতো বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।