তাকে ঘিরে ভক্তদের আহাজারি চায়ের আড্ডা থেকে উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। বিসিবি, জাতীয় দলের নির্বাচকদের কাছে নিত্যদিন তার গুণমুগ্ধদের অগুনতি অনুরোধ জমা পড়ে। সবার চাওয়া, একবার শুধু জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হোক। বাস্তবতা হলো, গত বুধবার জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে অনুমিতভাবেই জায়গা হয়নি মোহাম্মদ আশরাফুলের।
কিন্তু দল ঘোষণার পরদিনই হতাশাম্লান ভক্তদের এক দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দিলেন আশরাফুল। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট, বিপুল বিক্রমে জ্বলে ওঠা ব্যাট যেন ফিরিয়ে নিয়ে গেল তার ক্যারিয়ারের সোনালি দিনে। মিরপুর স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় ৩৬ বছর বয়সেও ব্যাটিংয়ে তারুণ্যের দীপ্তি নিয়ে হাজির আশরাফুল।
গতকাল ৪৮ বলে অপরাজিত ৭২ রান (৮ চার, ২ ছয়) করেছেন সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। আশরাফুলের ব্যাটে যখন দাপটের ছবি, প্রতিপক্ষ তখন নিশ্চিতভাবেই চিরেচ্যাপ্টা। গতকাল আবাহনীর সামনে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়েই ধরা দিয়েছিলেন। তার হাফ সেঞ্চুরিতেই ধরাশায়ী ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। গতকাল শেখ জামালের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে লিগ শিরোপাপ্রত্যাশী আবাহনী। ১৫ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২২ ও শেখ জামালের ১৯ পয়েন্ট।
আগে ব্যাট করে আবাহনী ৭ উইকেটে ১৭৩ রান তুলেছিল। লিটন দাস ৭০, নাঈম শেখ ৪২ রান করেন। জবাবে মাত্র ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসা শেখ জামালের ত্রাতা হয়ে ধরা দেন আশরাফুল। নাসিরের সঙ্গে ৬৯, অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাতেই ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে শেখ জামাল। সোহান অপরাজিত ৩৬, নাসির ৩৬, জিয়াউর ৯ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন। আশরাফুল ম্যাচ-সেরা হন।
এর আগে গতকাল সুপার লিগে দিনের প্রথম ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৩ উইকেটে হারিয়েছে মোহামেডানকে। আগে ব্যাট করা মোহামেডান ৬ উইকেটে ১৬৫ রান তুলেছিল। অধিনায়ক শুভাগত হোম অপরাজিত ৫৯, পারভেজ ইমন ৪১, ইরফান শুক্কুর ২৮ রান করেন। জবাবে মেহেদী হাসানের ঝোড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে ১৯.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে জয় পায় গাজী। ৫৮ বলে ৯২ রান (১১ চার, ৩ ছয়) করে ম্যাচ-সেরাও মেহেদী হাসান। সৌম্য ২২, আকবর আলী অপরাজিত ১১ রান করেন।
