কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক মোদির, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ২৩:১১

জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে বড় ধরনের অগ্রগতির পথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ১৪ জন প্রথম সারির নেতাকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। তবে এ ব্যাপারে কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি নীরব ছিলেন, কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি আশ্বস্ত করেছেন। বৈঠকে আপাতত নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের

রাজনৈতিক দলের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের   ফারুখ আবদুল্লাহ এবং ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদসহ কাশ্মীরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে মূলত কাশ্মীর ও জম্মুর বিধানসভার পুনর্বিন্যাস এবং দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে।

বৈঠকে গুপকার জোট অর্থাত্ ফারুখ আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিদের নেতৃত্বে যে সাত দলীয় জোট তৈরি হয়েছে, সেই জোটের পক্ষে কাশ্মীরের পূর্ণরাজ্য এবং বিশেষ মর্যাদা ফেরানোর জোরাল দাবি তোলা হয়। ফারুখ আবদুল্লাহ উপত্যকার বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবিতে সরব হন। একই দাবি করেন কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদও। তবে সূত্রের খবর, কেন্দ্র এখনো কাশ্মীরের পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর ব্যাপারে কোনো আশার বাণী উপত্যকার নেতাদের শোনাননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাদের জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সঠিক সময়ে বিবেচনা করা হবে। সেই সঠিক সময় এখনো আসেনি। তবে সরকার যে উপত্যকার রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর ব্যাপারে বদ্ধপরিকর, সেটা স্পষ্টত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অধিকাংশ বিরোধী নেতাই আশ্বস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। ওমর আবদুল্লাহ বলেন, গুলাম নবি আজাদ দাবি করেন, নির্বাচনের আগে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। সেই সময় সে কথা শুনে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত কাশ্মীরে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উপত্যকার দলগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকা পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ হলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মেহবুবা মুফতির সরকার থেকে বিজেপি সমর্থন প্রত্যাহার করার পর থেকেই কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতির শাসন চলছে। এরপর ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর উপত্যকার পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস বিলের মাধ্যমে পুরো রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভেঙে দেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীর মিলিয়ে একটি এবং লাদাখ এলাকা মিলিয়ে আরেকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হয়। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও এর পৃথক বিধানসভা থাকবে বলে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। অনেকটা দিল্লি এবং পুদুচেরির ধাঁচে চলবে জম্মু ও কাশ্মীরের শাসনব্যবস্থা। যদিও ২০১৯ সালের পরে এখনো জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের পথে পা বাড়ায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথম উপত্যকায় নির্বাচনের কথা শোনা গেল।