শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার যে তদন্ত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে মনে করেন রাজ্যের সাবেক প্রবীণ আমলারা। সাবেক কেন্দ্রীয় সচিব সুনীল মিত্রসহ রাজ্যের একাধিক সাবেক মুখ্যসচিব এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। কয়েক জন সাবেক মুখ্যসচিব অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিভ্রান্তি নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও চাকরির শর্তে নাম প্রকাশ করতে চাননি। কারণ, তাদের অনেকেরই অবসরের মেয়াদ চার বছর পার হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক এই সময়ের এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সাবেক কেন্দ্রীয় রাজস্ব সচিব সুনীল মিত্র বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ডিওপিটির সাবেক কর্মকর্তা শ্যামল সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। তিনি আমার সঙ্গে সহমত। অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের যে বিধির কথা কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তা তারা নিজেরাই ভালো করে পড়েননি। তার যুক্তি, বিধিতে বলা রয়েছে, আলাপনের বিরুদ্ধে এ রকম ব্যবস্থা নিতে পারে তার অ্যাপ্রোপিয়েট অথরিটি অর্থাত্ রাজ্য সরকার। কারণ, তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে কাজ করে অবসর নিয়েছেন। হতে পারে, তিনি অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের কর্মকর্তা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে তার বিরুদ্ধে একতরফা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না। নিতে হলে রাজ্যকেই নিতে হবে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের এই অর্ডারটাই ভুল।
রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্রেও কাজ করা সাবেক এই আমলার মতে, এর বিরুদ্ধে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সেন্ট্রাল আডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। হাইকোর্টেও বিচার চাইতে পারেন। আর প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা তিনি করেছেন তার বসের নির্দেশে। একজন সরকারি কর্মকর্তা বসকে অমান্য করবেন কী করে? আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যসচিব ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তার বস। বস তাকে যা বলেছেন, সেটাই তিনি পালন করতে দায়বদ্ধ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক সাবেক মুখ্যসচিব বলেন, এটা নিছকই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তা করতে চিঠি। যিনি এটা দিয়েছেন, তিনিও জানেন আদালতে গেলে দাঁড়াতে পারবেন না। আসলে অফিসারদের হয়রানি করতে কেন্দ্রীয় সরকার যাদের পরামর্শ নিচ্ছে, হয় তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না, নয় তারা আইন বোঝেন না। তার মতে, এত দিন ধরে প্রশাসনে আমলাতন্ত্রের যে কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তা ভেঙে ফেলতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। যাতে কর্মকর্তারা রাজ্যে কাজ করলেও কেন্দ্রের নির্দেশ শুনতে বাধ্য থাকেন।
