নাসিক মেয়রের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি জবর দখলের অভিযোগ

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২১:১৪

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি আধাপাকা ঘর ভেঙে দিয়ে প্রায় ২ শতাংশ জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভীর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনা ভাঙতে ব্যবহার করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের এক্সাভেটর ও লোকবল। উপস্থিত ছিলেন নাসিকের সার্ভেয়ার কালাম মোল্লাসহ উচ্ছেদকারী টিম। মেয়র আইভীর ছোট ভাই ও শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল দাবি করেন, ঐ জমি তার বড় ভাই জেলা যুবলীগের সহসভাপতি আলী রেজা রিপনের। বিরোধপূর্ণ জমি থেকে দখলদারদের সরে যাবার জন্য একমাস সময় বেঁধে দিলেও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় তারা তা ভেঙে জমির দখল নিয়েছেন।

 জমির অংশীদার অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মেয়র আইভীর ছোট দুই ভাই আলী রেজা রিপন ও আহাম্মেদ আলী রেজা উজ্জল সিটি করপোরেশনের সার্ভেয়ার কালাম মোল্লা ও সরকারি এক্সাভেটর দিয়ে তার চাচাতো বোন প্রয়াত মুন্নী বেগমের উত্তরাধিকার তার ছেলে মোমেন জেসির অংশে থাকা ঘরগুলো ভাঙতে আসে। ঐ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মচারী হিসেবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অভিযানের যৌক্তিকতা জানতে চাইলে নাসিকের সার্ভেয়ার কামাল মোল্লা বলেন, তিনি মেয়রের নির্দেশে উচ্ছেদে এসেছেন। জেসি অন্য স্থানে অবস্থান করায় তার পক্ষে তিনি উচ্ছেদে বাধা দিয়েছেন।

মোস্তাক বলেন, ৮৩ বছর আগে তার দাদা প্রয়াত শমসের আলী পৌনে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ৫০ বছর আগে মেয়র আইভীর বাবা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকা পাশের ২১ শতাংশ জমি তার স্ত্রী (মেয়রের মা) মমতাজ বেগমের নামে ক্রয় করেন। ১৯৭৫ সালের ১ জুন আলী আহাম্মদ চুনকা জমির ব্যাপারে একটি আপস বাঁটোয়ারা করেন। সেই নকশায় তার স্বাক্ষর রয়েছে। ঐ নকশার মাধ্যমে তিনি  নিজেই মোস্তাকের দাদা শমসের আলীকে উত্তর-দক্ষিণ পাশে ৬৮ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিম পাশে ১৪০ ফুট সীমানা বুঝিয়ে দেন। মোস্তাক আরো বলেন, প্রয়াত দাদার সম্পত্তি পুরোপুরি ভাগ বাঁটোয়ারা না হলেও তারা মৌখিতভাবে নিজেদের মধ্যে বণ্টননামা করেছেন। সেই অনুযায়ী যে জমি থেকে মেয়রের ভাইয়েরা ঘর ভেঙে দিয়েছেন তা জেসির অংশে পড়েছে।

এ ব্যাপারে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্পত্তির মালিক তার ভাইয়েরা। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলে সিটি করপোরেশন যেতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এক বছর ধরে তাদের বলা হচ্ছে জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা ছাড়েনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, সিটি করপোরেশনের সার্ভেয়ার ও এক্সাভেটর তিনিই পাঠিয়েছেন। যে পক্রিয়ায় জমি দখল করা হয়েছে তা ‘মাস্তানি’ বলে উল্লেখ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা। তারা বলেন জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে দাবিদাররা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারতেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটি হয়েছে অবৈধভাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন আইনজীবীও একই মত ব্যক্ত করেন ।