করোনার সংক্রমণ সম্ভবত দুই মাস আগেই শুরু হয়েছিল

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২১:১৭

ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের নতুন গবেষণা

g রয়টার্স

যে ভাইরাসের কারণে বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯ মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে, সেই নতুন করোনা ভাইরাস হয়তো ২০১৯ সালের অক্টোবরেই চীনে ছড়াতে শুরু করেছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা। ঐ বছর ডিসেম্বরে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানে এ ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিল চীন সরকার। তবে তার দুই মাস আগেই এ ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আভাস মিলেছে।

পিএলওএস প্যাথোজেনস সাময়িকীতে শুক্রবার প্রকাশিত ঐ গবেষণাপত্রে বলা হয়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরু থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের গবেষকরা কনজারভেশন বা সংরক্ষণ বিজ্ঞানের পদ্ধতি ব্যবহার করে এই হিসাব বের করেছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ভাইরাসটির উদ্ভবের তারিখ সম্ভবত ২০১৯ সালে ১৭ নভেম্বর এবং পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব  জুড়ে সেটি ছড়িয়ে পড়ে।

চীনে সরকারিভাবে প্রথম কোভিড-১৯ রোগীর তথ্য নথিভুক্ত করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এই রোগের উত্পত্তিস্থল হিসেবে উহান শহরের হুয়ানান সি ফুড বাজারকে চিহ্নিত করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের গবেষকরা বলছেন, ঐ সময়ের আগের সংক্রমণগুলোর ক্ষেত্রে হুয়ানানের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ঐ বাজারে পৌঁছানোর আগেই সার্স-সিওভি-২ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। এ বছরের মার্চের শেষে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং চীনের যৌথ গবেষণাপত্রে স্বীকার করা হয়েছে যে উহানে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগে গুচ্ছ আকারে মানবদেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে ফ্রেড হাচিনসন ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের জেস ব্লুম এ সপ্তাহে অপ্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র থেকে চীনের শুরুর দিককার কোভিড-১৯ রোগের কিছু মুছে ফেলা তথ্য-উপাত্ত উদ্ধার করেন। সেখানে দেখা গেছে হুয়ানান বাজারের যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তা পুরোপুরিভাবে সার্স-সিওভি-২ এর ‘প্রতিনিধি-ত্বমূলক’ নয়, এবং এর আগেই ভাইরাসটির একটি আদি ধরন ঘুরে বেড়াচ্ছিল, যা চীনের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ জানিয়েছে, ঐ গবেষণায় যে নমুনাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা ২০২০ সালের মার্চে সিকোয়েন্স রিড আর্কাইভে (এসআরএ) জমা দেওয়া হয় এবং পরে চীনের অনুসন্ধানকারীদের অনুরোধে সেগুলো মুছে ফেলা হয়। চীনের অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছিলেন, সেগুলো হালনাগাদ করা হবে এবং আরেকটি আর্কাইভ জমা দেওয়া হবে। সমালোচকেরা বলছেন, এই তথ্য-উপাত্ত মুছে ফেলার ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে চীন কোভিড-১৯-এর উত্পত্তি নিয়ে কিছু গোপন করার চেষ্টা করছে।