বিবিসি
ইউএফও মানে ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্টস’ বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পৃথিবীর নানা দেশে নানা সময় আকাশে উড়তে দেখা গেছে এগুলোকে। বিচিত্র আকারের নভোযানের মতো দেখতে এগুলো, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়ে হঠাত্ অদৃশ্য হয়ে যায়। বৈমানিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বহু জন এই রহস্যময় উড়ন্ত যান দেখার কথা বলেছেন, কিন্তু অনেকেই তাদের বর্ণনা বিশ্বাস করেন না।
এগুলো নিয়ে সিনেমা-টিভি ধারাবাহিক হয়েছে, কিন্তু এর রহস্যভেদ আজও হয়নি। অনেকের ধারণা, এগুলো গোপন কোনো সামরিক বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন, আবার কেউ বলেন এগুলো ভিনগ্রহ থেকে আসা বুদ্ধিমান প্রাণীদের নভোযান। আসলে এগুলো যে ঠিক কি-তা কেউই জানে না। অন্তত এখন পর্যন্ত।
তবে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে মার্কিন সরকার। চলতি মাসেই এটি প্রকাশ হবে। এ রিপোর্টটি এতদিন ক্লাসিফায়েড অর্থাত্ অতি গোপনীয় অবস্থায় ছিল। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকেই আকাশে ইউএফও দেখতে পাবার এত অসংখ্য রিপোর্ট এসেছে যে মার্কিন কংগ্রেস এই রিপোর্টটি চেয়ে পাঠিয়েছে। অনেকে বলছেন, ইউএফওগুলো যে অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছে এমন মতবাদের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ খুবই কম। তাই রিপোর্টটি প্রকাশ করলেও মানুষের ধারণায় কতটা পরিবর্তন আসবে—তা দেখার বিষয়। সামরিক নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এসব ইউএফওর যে প্রযুক্তি তা যদি অন্য কোনো গ্রহের প্রাণীদের না-ও হয়, তা যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী কোনো দেশ—যেমন :রাশিয়া বা চীনেরও হতে পারে।
রিপোর্টটি সম্পর্কে আমরা কী জানি?
গত বছরের আগস্ট মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে—যার উদ্দেশ্য ছিল অজানা উড়ন্ত বস্তু দেখতে পাবার বিবরণগুলো পরীক্ষা করে দেখা। এর নাম ছিল আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা টাস্ক ফোর্স। এর দায়িত্ব ছিল এসব ঘটনা ‘চিহ্নিত করা, বিশ্লেষণ ও তালিকাভুক্ত করা। তাছাড়া ইউএফওর প্রকৃতি এবং উত্স সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা।
রিপোর্টটিতে গত দুই দশকের ১২০টি ইউএফও সংক্রান্ত ঘটনাকে বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল তিনটি ভিডিও যা গত বছর পেন্টাগন ডি-ক্লাসিফাই করে অর্থাত্ আগে গোপন রাখা হয়েছিল এমন অবস্থা থেকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
এই রিপোর্টের একটি গোপন সংস্করণ জুন মাসের প্রথম দিকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হাতে দেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে কিছু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেছেন, রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ভিনগ্রহের মানুষের কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এমন সম্ভাবনা বাতিল করেও দেওয়া হয়নি। এছাড়াও আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, এতে বলা হয়েছে যে, ইউএফওগুলো কোনো গোপন মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি নয়। কিন্তু তাহলে এই অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুগুলো ঠিক কী—তা নিয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ঐ রিপোর্টটি। বলা হচ্ছে, এ রিপোর্ট থেকে কোনো দুনিয়া-কাঁপানো রহস্য উদ্ঘাটন হবে না। তবে এ বিষয়ে যে একটি সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, তাতেই বোঝা যায় যে ইউএফও ইস্যুটি কল্পবিজ্ঞান ও পপ-সংস্কৃতির জগত্ থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
এই কথিত ভিনগ্রহের প্রাণীদের নভোযানে চড়ে পৃথিবীতে আসার তত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা যুক্তি দিয়ে আসছেন একদল লোক—যাদের বলা হয় ইউএফওলজিস্ট। এরা বলেন, এই ইউএফও-র অস্তিত্বের অনেক প্রমাণ আছে, কিন্তু সরকার এগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল— যেন তারা কথিত ভিনগ্রহের প্রাণীদের সম্পর্কে কী জানে তা প্রকাশ করে।
এ ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ কী আছে?
বেশ কিছু মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউএফও দেখার ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য বর্ণনাগুলো এসেছে পাইলটদের কাছ থেকে। সামরিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাছাকাছি ইউএফও উড়ছে—এ দৃশ্য তারা ককপিট থেকেই দেখতে পেয়েছেন। গত মার্চে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক জন র?্যাটক্লিফ ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, খবরে যতটুকু প্রকাশ করা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ইউএফও দেখা গেছে।
