আর্জেন্টিনার ‘জামাই’ বেনি হাওয়েল

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১৬

জান-ই-আলম

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে হাহাকার আছে পুরো দেশে। তবে বাঙালির ফুটবলপ্রেম সর্বজনবিদিত। ফুটবল আবেগের দিক থেকে অবশ্য সিংহভাগ বাংলাদেশি বিভক্ত দুই ভাগে। লাতিন আমেরিকার দুই দেশ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ফুটবলে বিমুগ্ধ বাংলাদেশের অলি-গলি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লিওনেল মেসির দেশ। সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে উড়ে এসে বিপিএল খেলছেন বেনি হাওয়েল। রংপুর রাইডার্সের এই ক্রিকেটার টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছেন ম্যারাডোনা-মেসির মাতৃভূমিতে। ফুটবলের এই দেশটি আসলে বেনির শ্বশুরবাড়ি।

ক্রিকেটে প্রচলিত ‘বহুজাতিক’ শব্দটি তার সঙ্গে খুব ভালো মানিয়ে যায়। ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের জন্ম ফ্রান্সে। বাবা ইংলিশ, মা অস্ট্রেলিয়ান। পড়াশুনা ও বসবাস ইংল্যান্ডে। রয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট। তার স্ত্রী অর্ধেক আর্জেন্টাইন ও অর্ধেক মার্কিন।

গত শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিসিবি একাডেমি মাঠে বসে ‘সিটিজেন অব ওয়ার্ল্ডের’ তকমা পাওয়া বেনি নিজের পারিবারিক ইতিহাস বলতে গিয়ে জানান, ‘আমার মা অস্ট্রেলিয়ান। বাবা ইংলিশ। তারা ফ্রান্সে থাকা অবস্থায় আমার জন্ম। আমার স্ত্রী আসলে আর্জেন্টাইন। অর্ধেক আর্জেন্টাইন, অর্ধেক মার্কিনও। আমার একটা ছেলে আছে, তাই সে আর্জেন্টাইন, মার্কিন, অস্ট্রেলিয়ান, ইংলিশ বলতে পারেন (হাসি)।’

আর্জেন্টিনায় ফুটবল-হকির মাঠে বিপিএল প্রস্তুতির সময় মেসিদের মতো তারকা কোনো ফুটবলারের সঙ্গে সাক্ষাত্ হয়নি বেনির। শুধু পরিবার নয় তার ক্রিকেটে আসার গল্পটাও কম চিত্তাকর্ষক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুটি বিষয়ের প্রেমে পড়েন তিনি। একটি বেসবল, আরেকটি নিজের স্ত্রীর। যুক্তরাষ্ট্রে মাইনর বেসবল লিগে খেলতে গিয়েই ক্রিকেটে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আর বেসবল থেকেই নিজের বোলিং তুণে যোগ করতে পেরেছেন অনেক তীর।

‘দ্য ক্রিকেটার’ ম্যাগাজিনের কাছে নাকি বেনি দাবি করেছেন, স্লোয়ার বোলিংয়ের ৫০ রকমের বৈচিত্র্য জানা আছে তার। যদিও শুক্রবার একান্ত আলাপচারিতায় বলছিলেন, ‘তারা কিছুটা অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করেছে। আমার কাছে অনেক বৈচিত্র্য আছে। এটা উইকেট, ব্যাটসম্যান দেখে আমি ব্যবহার করি। কিন্তু এটা সত্য আমার লকারে কিছু (স্লোয়ার বল) সংরক্ষিত আছে।’

রংপুরের হয়ে এবার বিপিএলে ছয় ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব গ্লুস্টারশায়ারের এই ক্রিকেটার। দুই মৌসুম খুলনা টাইটান্সে খেলার পর এবার রংপুরে খেলছেন তিনি।

বেসবল থেকে শিখে বেনির স্লোয়ার বোলিংয়ের কারখানায় যুক্ত হয়েছে নাকল বল, স্ক্রিউ বল, কার্ব বল, ওবল বল-নামের অনেক ধরনের বল। যেগুলো ব্যবহারও করেন তিনি। নিজেকে মূলত মিডিয়াম পেসার ও স্পিনারের মাঝে এক ধরনের বোলার মনে করেন। বেনি বলেন, ‘আমি সাধারণ মিডিয়াম পেস বোলার নই। আমি মনে করি আমি স্পিনার ও মিডিয়াম পেসারের মাঝামাঝি। আমি অনেকটাই দ্রুতগতির রহস্য বোলার। বলতে পারেন দ্রুতগতির স্পিনার।’

আধুনিক ক্রিকেটে স্লোয়ার বল কার্যকর অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছে। বেনি বলছেন, ‘এটা তাদের ব্যবহার করতেই হবে। এখন অবধি ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ক্রমাগত মারছে, তাতে ওদের ধরতে বোলারদের এসব করতেই হবে। না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে। প্রতিনিয়ত উন্নতি করতে হবে সবাইকে।’

বোলিংয়ে সবসময় বৈচিত্র্যের মিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টায় থাকা বেনি ক্যারিয়ার শেষে ভবিষ্যতে বোলিং কোচ হতে চান। বছরের বেশিরভাগ সময় এখন টি-২০ লিগ খেললেও এই ক্রিকেটারের স্বপ্ন ইংল্যান্ডের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা। বলেছেন, ‘আমি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই অন্তত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে।’

বর্ণিল চরিত্র বেনির জীবনেও আছে সংগ্রামের গল্প। ছোটবেলা থেকে এডিএইচডি (মনোযোগ ঘাটতি সংক্রান্ত অস্বাভাবিক ব্যাধি) নামক ব্যাধিতে ভুগছেন বেনি। যা কাটিয়ে উঠতে সবসময় মেডিটেশন করতে হয় এই ক্রিকেটারকে।