অলোক আচার্য
শীত মানে ঠাণ্ডা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় হাড় পর্যন্ত জমে যায়। আর গীত মানে গান। গীতকাল মানে গানের কাল। তবে শীতকালের সাথে গীতকালের কোনো সম্পর্ক নেই। গান যেকোনো সময় করা যায়। এটাই এতদিন জানতাম। মানে গান করার জন্য কোনো আলাদা কাল মানে সময়ের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কয়েকদিন আগে জানলাম শীতকাল নাকি গানের জন্য সর্বাধিক উত্কৃষ্ট কাল। গরমে নাকি গান টান হয় না। ঘটনাটা খুলে বলি।
বহুদিন পর বাজারে গিয়ে অমিতের সাথে দেখা। অমিত আমার স্কুল জীবনের ঘনিষ্ট বন্ধু। বন্ধু মহলে অমিতের গানের গলার বেশ সুনাম আছে। ছোটবেলায় গান গেয়ে সে স্কুলে রীতিমত হিরো ছিল। আর আমরা ছিলাম তার চ্যালা। কথায় কথায় আমি তাকে আমার বাসায় আসার দাওয়াত দিলাম। ভাবলাম আড্ডাও হবে আবার ফ্রিতে গান শোনাও হবে। যথাসময়ে সে আমার বাসায় বেড়াতে এলো। খাওয়াদাওয়া শেষে তাকে গানের কথা বলতেই সে সোজা গান করতে পারবে না বলে জানিয়ে দিল। কারণ হিসেবে সে যা জানালো তা শুনে আমাদের চোখ তো চড়কগাছ। তার বক্তব্য অনুযায়ী সে শীতকালে গান গায়। শীতকাল ছাড়া অন্য কোন সময় সে গান গায় না। আমি বললাম, শীতকালের সাথে গান গাওয়া না গাওয়ার সম্পর্ক কী? অমিত আমাকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলল, দেখ, প্রথমত শব্দের মিল। মানে শীত আর গীতের কি সুন্দর একটা মিল আছে। আরও কয়েকটা ভালো দিক আছে। আমরা গানের রেওয়াজ কখন করি?
আমি বললাম, ভোরে।
—রাইট। সেটা সবার ঘুমের সময়। তো ঘুমের সময় যদি রেওয়াজ করি তাহলে তোর ভাবি মহা বিরক্ত হয়। বিশেষ করে তোর ভাবির। কিন্তু শীতকালে সেই সমস্যা নেই।
—কেন?
—কারণ তোর ভাবি পা থেকে মাথা পর্যন্ত লেপ কম্বল দিয়ে ঢেকে ঘুমায়। ফলে কোন সমস্যা নাই।
—এই একটা কারণ?
—না, আরও আছে। শীতকালে গান করলে শীত কম লাগে। এই কারণে শীতকাল আমার কাছে গীতকাল। বুঝলি?
পাবনা।
