এসডিজি অর্জনে কর্মসংস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়ার তাগিদ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৮

টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) অর্জনে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে। টাকার অঙ্কে বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়লেও মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) অনুপাতে এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনমানের উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, কর্মসংস্থান তৈরিসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এসডিজির অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বিষয়ে তাগিদ দেন। গতকাল শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। আরো বক্তব্য দেন, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপো, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, জিইডি সদস্য ড. শামসুল আলম।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপো বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান তৈরি। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনসংখ্যাগত যে সুবিধা বাংলাদেশের রয়েছে এর সুফল পেতে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। দারিদ্র্য কমে আসলেও দেশে অসমতা বেড়েছে। এসডিজির লক্ষ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশকে সুশাসন পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, দুর্নীতি পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরো নজর বাড়াতে হবে। ‘কেউ পিছিয়ে থাকবে না’, এই শ্লোগানকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ধরে এগুতে হবে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তার বক্তব্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বলেন, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। স্বল্প খরচ করে স্বাস্থ্য খাতের অনেক সূচকে উন্নতি করেছে যা বিশ্বে ‘ডেভেলপমেন্ট সারপ্রাইজ’। কিন্তু পুষ্টিহীনতা রোধে অল্প খরচের সমাধান খুঁজলে হবে না। এজন্য মানুষের আয় বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, জিডিপির অনুপাতে কর আদায় হার অনেক কম। তাছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয় বাড়লেও জিডিপির অনুপাতে আরো বাড়াতে হবে। ড. মসিউর রহমান তার বক্তব্যে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহার বাড়াতে তাগিদ দেন। তিনি বলেন, গেলো অর্থবছর রেকর্ড ছয় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। এর পরেও বৈদেশিক সহায়তার পাইপলাইনে বড় অঙ্কের অর্থ আটকে আছে। বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এসডিজি একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

ড. শামসুল আলম তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে। তবে অনেক তথ্যের ঘাটতি রয়ে গেছে। দারিদ্র্যহার কমে এসেছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অনেক নির্দেশকের লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে। কিন্তু বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনা, উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ভূমির ব্যবহার, শিল্পায়ন, পরিবেশগত বিষয়ে আরো নজর দিতে হবে।