মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৬

 

 

লেখা মুহসিন ইরম 

আঁকা মেনন খান

—ইয়ে, আমি আপনাদের এখানে গত পরশু কক্সবাজারের দুটো টিকিট বুকিং করেছিলাম। সময়ের অভাবে আর যোগাযোগ করা হয়নি। টিকিট দুটো কি বিক্রি হয়ে গেছে?

—স্যার, আপনি সেই শরাফত হাসান? আসলে আমাদের অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের ওপর একটি অফার চলছে। লটারির মাধ্যমে বিজয়ীর জন্য কক্সবাজার আসা-যাওয়ার দুটো টিকিট থাকছে একদম ফ্রি। যার উইনার হয়েছেন আপনি।

 

—যেতাম তো শান্তিবাগ মহল্লায়। ব্যাপার না। আপনি কি কাইন্ডলি আমাকে শান্তিনগর মেইন রোডে নামিয়ে দিতে পারবেন? আর জ্যাম থাকলে কাকরাইল নামিয়ে দিলেও হবে। ভাড়া মিটারের চেয়ে ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেব।

—শান্তিবাগ মহল্লায় তো আমারও বাসা ভাইজান! একই মহল্লায় বাসা মানে আত্মার একটা নিবিড় সম্পর্ক। ওঠেন, ভাড়া মিটারে যা আসে সেটাই দিবেন। আর নম্বরটা রাখেন। প্রয়োজনে জাস্ট একটা মিসকল দিবেন।

 

—বাবা, তোমরা দলবেঁধে আমার দোকানে এসেছ দেখে খুবই প্রীত হলাম। নিশ্চয়ই কোনো প্রয়োজনে চাঁদা চাইবে? কিন্তু, ইদানীং আমার ব্যবসায় চরম মন্দাভাব চলছে। ক’দিন পরে দেই টাকাটা?

—আরে চাচা, কী বলেন। মহল্লায় থাকি আর সবার খোঁজখবর রাখব না? আপনার দুর্দিনে ইয়াং ক্লাবের পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদানের জন্য এসেছি আমরা। আপনি কিন্তু না করতে পারবেন না।

 

—চৌধুরী সাহেব, আমার বেকার ছেলেটা না বুঝে আপনার মেয়েকে ভালোবেসেছে। আমরা ওকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এই সম্পর্ক সমাপ্তে বাধ্য করব। আপনি টেনশন নিবেন না।

—খামোশ, তা চাইলেও আর হবে না খান সাহেব। আপনারা বিয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। আর হ্যাঁ আপনার বেকার ছেলেকে কালই একবার আমার অফিসে আসতে বলুন। ম্যানেজারের পদে একজন যোগ্য লোক খুঁজছি।

 

—স্যার,একটা ফাইল রেখে গেছিলাম দু’মাস আগে। এটার অগ্রগতি জানতে ক’মাস পরে আসতে হবে, আর আপনার চা-পানের খরচটা কেমন যদি ধারণা দিতেন।

—কী মিয়া, ফাইল রেখে সেই যে গেলেন আর খবর নেই। তিনদিনের মাথায়ই তো আপনার ফাইল ওকে করে রেখে দিয়েছি। আর হ্যাঁ, চা-পানের চিন্তা আপনাকে করতে হবে না। অফিসে পর্যাপ্ত চা-পানের ব্যবস্থা আছে।