উফ! নাক ডাকা

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ০০:৩২

সারাদিন কর্মব্যস্ততার পরে রাতে একটু শান্ত মনে ঘুমাতে গেলেন ছবি। বিছানায় শুয়ে রাজ্যের যত চিন্তা মাথায় ঘুরপাক করতে করতে একসময় যখন নেমে এলো ঘুম ঠিক তখনি ধরফরিয়ে উঠলেন তিনি। ছবির বরের নাক ডাকার আওয়াজে ঘুমানো তো দূরের কথা রুমে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির শিকার অনেকেই। অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। যিনি নাক ডাকেন তিনি হয়তো হাসি-ঠাট্টার মধ্যে বিষয়টিকে পাত্তা দেন না। অথচ অনেক সময় নাক ডাকা শারীরিক অসুস্থতার কারণেও হতে পারে।

নাক ডাকা রোধে কিছু টিপস—

পাশ ফেরে ঘুমানো

অনেকে ঘুমানোর সময় সোজা হয়ে ঘুমান। এতে করে শ্বাসনালীতে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা পায়। এ সময় শব্দ হয়। একসময় জোরালো শব্দ হতে থাকে। তাই যতটা সম্ভব সোজা হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে শোওয়া উচিত।

ওজন কমানো

অতিরিক্ত ওজন শুধু রোগ সৃষ্টি করে না, এটি নাক ডাকারও একটি অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার কারণে ঘুমানোর সময় সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাপ্রাপ্ত হয়।

অ্যালকোহল পরিহার করুন

ঘুমানোর আগে ক্ষতিকর অ্যালকোহল দ্রব্য সেবনে নাক ডাকা হতে পারে। তাই ক্ষতিকর অ্যালকোহল ও সমজাতীয় দ্রব্য খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

অতিরিক্ত বালিশ নেওয়া

ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করলে নাক ডাকা দূর করা যায়। অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করলে মাথা বুক থেকে উপরে থাকে। এতে অনেক সময় শ্বাস-প্রশ্বাস সহজভাবে হয়।

ধূমপান পরিহার করুন

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। ধূমপানের কারণে ক্যান্সার এবং হূদযন্ত্রের নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ধূমপান নাক ডাকার কারণগুলোর মধ্যে একটি। এর কারণে শ্বাসনালীতে সঠিকভাবে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। তাই ধূমপান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।

রুটিন মতো ঘুমানো

ঘুমানো শরীরের জন্য অনেক উপকারী। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। আর প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা উচিত। এটি শরীরের মধ্যে একটি সমন্বয় তৈরি করে।

ব্যায়াম

প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করলে শরীরের মাংসপেশি মজবুত, হূদযন্ত্রের ক্রিয়া ও রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে হয়। নিয়মিত ব্যায়াম সঠিকভাবে ঘুমাতেও সহায়তা করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিটের ব্যায়াম করলে নাক ডাকা দূর করা সম্ভব।

তরল পানীয় পান

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ তরল পানীয় পান করতে হবে। এতে নাক সচল থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাহীন হয়।

নাক পরিষ্কার রাখা

নাক ডাকা দূর করার একটি অন্যতম উপায় হলো নাক পরিষ্কার রাখা। নাক বন্ধ থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা পায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে নাক পরিষ্কার করে নিতে হবে।

সঠিক সময়ে রাতের খাবার

ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে। এতে ঘুমানোর আগেই হজম প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয়। ফলে শব্দহীন এবং সঠিক ঘুম হয়।

অনেক সময় নাক ডাকা নির্দিষ্ট কোনো কারণে হয় না। উপরের টিপস ব্যবহার করেও যাদি নাক ডাকা বন্ধ না হয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।