গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
গোবিন্দগঞ্জে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত অভিযোগ এনে এক প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালতলা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি গোবিন্দগঞ্জ তালুককানুরপুর ইউনিয়নের তালতলা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া শহিদুল ইসলাম তালুককানুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানও।
এদিকে, এ ঘটনার বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠে স্থানীয়রা। তারা রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের তালতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বারার বুলেট ছোড়া হয়। এতে কেউ আহত হয়েছেন কিনা জানা নেই। তিনি আরো জনান, ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষক ও ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা দুইজনে প্রতিবেশী সম্পর্কে নানা-নাতিন। ওই ছাত্রী তার নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করছে। সন্ধ্যায় শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তাকে নিয়ে মার্কেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু টাকা না থাকায় শহিদুল ইসলাম তাকে নিয়েই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আসেন টাকা নিতে। অফিস কক্ষে প্রবেশের পরেই স্থানীয় লোকজন বাহির থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে অপপ্রচার চালায়। এ ঘটনা নিয়ে মেয়ে ও তার পরিবারের লোকজনের কোন অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তারপরেও ঘটনাটি আরো খতিয়ে দেখা হবে। গতকাল রবিবার প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ এবং ছাত্রীকে তার অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
