নীতি নির্ধারক, গবেষক, সুশীল সমাজ, নগর পরিকল্পনাবিদ, উন্নয়ন সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই শিশু ও যুব বান্ধব নগরী গড়ে তোলা সম্ভব বলে একটি ওয়েবিনারে মত দিয়েছেন আলোচকবৃন্দ।
সোমবার (২৮ জুন) সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজনে ‘ফিউচার সিটিস ডায়লগঃ রিশেপিং দ্য সিটিস ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে ভবিষ্যৎ নগরকে শিশু ও যুবদের জন্য নিরাপদ ও নির্মল করে তুলতে নগর পরিকল্পনায় কী কী বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে কমপক্ষে চার জনের মধ্যে একজন শহর অঞ্চলে বাস করেন; এবং ৩০ বছরের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক লোক মানুষ শহরে বসবাস করবে। আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু। শিশুদের ওপর অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা এবং টেকসই নগর উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে আনুষঙ্গিক নীতি ও পদ্ধতির সংশোধন করে শিশুদের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার সময় এসেছে। আলোচনা থেকে বারবারই উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট সকলের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা। দ্বিতীয় যে বিষয়টির দিকে আলোচকবৃন্দ গুরুত্ব দিয়েছেন তা হলো, নগর পরিকল্পনায় শিশু ও যুবদের সরাসরি অংশগ্রহণ তথা নগর নিয়ে তাদের ভাবনার জায়গাগুলো তাদের কাছ থেকেই শোনা ও গুরুত্ব দেওয়া।
আলোচনায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার, বাংলাদেশের সমন্বয়ক ড. খালিদ হোসেন বলেন, শিশু ও তরুণ-যুবরা কীভাবে চিন্তা করে তা আমাদের বুঝতে হবে। ভবিষ্যতের নগরীটা তাদের। তারা কিভাবে আমাদের বন্যপ্রাণী, পানি, পরিবেশের সাথে বসবাস করতে চায় তা মাথায় রেখেই আমাদের নগর পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, পরিকল্পনায় আমাদের জোরালো ভূমিকা রাখায় জায়গায় এবং অন্তর্ভুক্তিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। আমরা মনে করছি, আমার বেঁচে থাকাটা, আমার ভোগ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের থেকে ধার করা পৃথিবীকে যে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে চলতে হবে, এটা আমাদের নগর পরিকল্পনায় উহ্য থেকে যায়।
আলোচনার পূর্বে শিশু ও যুব বান্ধব নগরী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ও তাদের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের আরবান রেজিলিয়েন্স ম্যানেজার সায়মন রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি ডিরেক্টর রিফাত বিন সাত্তার।
অন্যান্য আলচকবৃন্দদের মধ্যে ছিলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পলিসি ইনফ্লুয়েন্স পরিচালক টনি মাইকেল গোমেজ, জেন্ডার এনালিস্ট ফারহানা হাফিজ, ব্র্যাকের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের পরিচালক মো. লিয়াকত আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, বিশ্ব ব্যাংকের আরবান ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিষ্ট ইশিতা আলম অবনী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট (আরবান) শামিমা সিদ্দিকি এবং আইসিএলইআই- লোকাল গভর্নমেন্টস ফর সাসটেইনেবিলিটি এর রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম প্রধান ড. নাজমুল হক।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
