অদ্ভুত আবহাওয়ার কবলে অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

একদিক গরমে কাবু    অন্যদিক বন্যায় নাকাল

বরকতুল্লাহ সুজন

 

বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চল যেখানে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে, অস্ট্রেলিয়ায় ঠিক সেসময় রেকর্ড মাত্রার গরম পড়েছে। গা জ্বালানো উত্তাপে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। গত কয়েক মাস ধরে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে তাপমাত্রা। যা চূড়ান্ত রূপ নেয় জানুয়ারিতে। এই সময়টাতে থাকে চোখ ঝলসানো স্বচ্ছ আকাশ। সূর্যের খরতাপের মধ্যে যেন একটু ছায়া, এক টুকরো মেঘ সস্তি এনে দিতো। সবাই যখন এমন বৃষ্টির অপেক্ষায়, বর্ষার জন্য প্রার্থনায়, ঠিক তখন ভারী বর্ষণে ভেসে গেল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুইন্সল্যান্ড। নদী, খাল, বিলের পানি উপচে প্লাবিত হয়েছে অঙ্গরাজ্যের সব নিচু এলাকা। মৌসুমী বৃষ্টি হলেও একে বলা হচ্ছে ব্যতিক্রমী। যেটা এর আগে কখনই ঘটেনি। আসলে গোটা অস্ট্রেলিয়ায় এখন যে অদ্ভুত আবহাওয়া বিরাজ করছে তা অস্বাভাবিক ও অসহ্য।

আবহাওয়া অফিস বলছে, গেল জানুয়ারিতে এযাবত্কালের সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে অস্ট্রেলিয়ায়। প্রথমবারের মতো এই মাসের গড় তাপমাত্রা ছাড়ায় ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জানুয়ারিতে অন্তত পাঁচটি দিনে ছিল রেকর্ড তাপমাত্রা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়ায় এডিলেইড নগরী। জানুয়ারিতে সেখানে প্রথমে ৪৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। পরে তা ৪৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে থামে। তবে সারাদেশে দৈনিক গড় তাপমাত্রা ওঠে চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। গরমকালে এত উত্তাপ এর আগে কখনই দেখেনি অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। হঠাত্ করেই হাসপাতালে ভিড় বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্যে দেখা দেয় দাবানল। দক্ষিণ দ্বীপ রাজ্য তাসমানিয়ায় প্রচণ্ড উত্তাপ আর ঝোড়ো বাতাসের কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে অর্ধ শতাধিক দাবানল। এ সব নেভাতে এখনও মরিয়া দমকল বাহিনীর সদস্যরা। দাবানলে বড় ভুক্তভোগী বন্য প্রাণীকূল। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, দাবানলে মারা গেছে অসংখ্য বুনো ঘোড়া ও বাদুড়।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড খরা। পানির অভাবে সেখানে ফসল হওয়া তো দূরের কথা, মাটি ফেটে চৌচির। ভূপৃষ্ঠ যেন পাথরের তৈরি। এই অঞ্চলে খরার কবলে বিলীন হয়েছে বিপুল মত্স্য সম্পদ। সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে হুমকির মুখে অস্ট্রেলিয়ার জীববৈচিত্র্য।

এদিকে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে কুইন্সল্যান্ডের উপকূলীয় নগরী টাউন্সভিলে। সেখানকার বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গরমের মধ্যে যেন অভিশাপ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টি। নিমেশেই ভেসে গেছে প্রাইভেট কার ও গবাদি পশু। কয়েকটি এলাকা থেকে জরুরিভিত্তিতে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়। পানির তোড়ে স্থানীয় একটি বাঁধ ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। বড় ধরনের বিপদ এড়াতে বাঁধ খুলে দিতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। উত্তর কুইন্সল্যান্ড গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমী বৃষ্টি হতে দেখা যায়। জানুয়ারির শেষ নাগাদ বন্যা হওয়ার মতো ভারী বৃষ্টি সেখানে একেবারেই বিরল ঘটনা। অধিবাসীরা জানান, এই সময়ে এমন পরিস্থিতি এর আগে জীবনে কখনই তারা দেখেননি।