সকল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব শক্তিশালী করা এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর পূর্ণ এবং সমঅংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় এগিয়ে নিতে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন ও নারী নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
গতকাল রবিবার পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে ‘জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করা এবং অব্যাহত নারী-কন্যা নির্যাতন, ধর্ষণের প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
সম্মেলনে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগমসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাগণ।
আয়শা খানম বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি ইতিবাচক দৃশ্য বাংলাদেশে বিদ্যামান। আজকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নারীরা দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান একটি বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু নির্বাচন ব্যবস্থায় অর্থ এবং পেশী শক্তির ব্যবহার, নারীর প্রতি সমাজের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি, নারী হিসেবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, বিদ্যমান সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদির কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে নারীদের অগ্রসর হওয়া অনেক কঠিন। ২০০৯ সালে এই সরকারের যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল সেখানে নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ করে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করার মতো একটি সহায়ক পরিবেশ ছিল এবং তা করা হলে ২০১৮-তে অনেক নারী সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ২০১৮ সালে ধর্ষণ, গণধর্ষণের সংখ্যা ৯৪২টি। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে নারীর প্রতি সহিংসতার সংখ্যা ও মাত্রা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি অব্যাহত নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারকে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি (জিরো টলারেন্স) গ্রহণ করার জন্য দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নতুন বছরের প্রথম দিনেই ২৩টি ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মোট ২৯৮টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৫২টি ধর্ষণ, ২২টি গণধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণের পরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই তথ্যসূত্রে দেখা যায় ২০১৮ সালে ৩৯১৮ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, সন্ত্রাস, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদাসীনতার কারণে বেশিরভাগ সময়েই অপরাধী ধরা পড়ে না। আবার ধরা পড়লেও তার সুষ্ঠু তদন্ত ও তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা, আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী এলাকা পুনঃ নির্ধারণ, এই বিষয়ে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিল উত্থাপন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ বাস্তবায়ন, নারী, কন্যা নির্যাতন নির্মূল করার লক্ষ্যে নারী, কন্যা নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ, বৈষম্যমূলক সকল আইন সংস্কার করে অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতিসংঘ ঘোষিত সিডও সনদেও ২ ও ১৬-১ (গ) ধারায় সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং নারীর মর্যাদা বিষয়ক কমিশন গঠন করার সুপারিশ করা হয়।
