বাংলাদেশ হইল পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। এই দেশে অনেকগুলি দ্বীপ অঞ্চল রহিয়াছে। কিন্তু এইসব অঞ্চলে এখনো বিভিন্ন নাগরিক সেবা কাঙ্ক্ষিত হারে পৌঁছে নাই। গতকাল সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হইয়াছে যে, নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা রহিয়াছে বেহাল অবস্থায়। সেখানকার সাত লক্ষ বাসিন্দার জন্য সব মিলাইয়া চিকিত্সক রহিয়াছেন মাত্র চারজন। নাই ঔষধের পর্যাপ্ত সরবরাহ। অথচ চমত্কার স্বাস্থ্য অবকাঠামো ঠিকই রহিয়াছে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন ডাক্তার থাকিবার কথা। কিন্তু বাস্তবে আছেন মাত্র চারজন। খাতাকলমে এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকিবার কথা থাকিলেও প্রকৃতপক্ষে আছে ১০টি এবং ইহার মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে রহিয়াছে নিজস্ব ভবন। এইসব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করিয়া ১০ জন এমবিবিএস ডাক্তারের পদ রহিয়াছে, কিন্তু বাস্তবে একজনও নাই বলিয়া জানা যায়। ইহাছাড়া দ্বীপের অভ্যন্তরে পরিবহন ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এখানে একটি মাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকিলেও চাহিদার তুলনায় তাহা অপ্রতুল।
বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা হইতেছে ভোলা। সেখানেও স্বাস্থ্যসেবাগত নানা সমস্যা বিরাজমান। ইহাছাড়া অন্যান্য দ্বীপ অঞ্চলের অবস্থাও ভালো নহে। বিশেষ করিয়া আমরা সেন্টমার্টিন, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, ছেঁড়াদ্বীপ ইত্যাদির কথা বলিতে পারি। এইসব অঞ্চলে সুলভে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সমপ্রসারণ করা প্রয়োজন। নিঝুপ দ্বীপের অবস্থান বঙ্গোপসাগরের বুকে এবং হাতিয়া হইতে প্রায় ৯৭ কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনায়। এখানেও নানা সমস্যা বিদ্যমান। আসলে বাংলাদেশের সক্রিয় ব-দ্বীপ অঞ্চলটি অবস্থিত বৃহত্তর ফরিদপুর ও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে। এইসব দ্বীপের অধিবাসীদের প্রতিদিনকার সমস্যার সমাধানে আমাদের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। স্বাধীনতা লাভের প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যেও তাহাদের নাগরিক সুবিধা হইতে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি কাম্য নহে।
বাংলাদেশের দ্বীপ অঞ্চলগুলি ব্যাপক সম্ভাবনাময়। বিশেষত ইহার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। মত্স্য আহরণের পাশাপাশি পর্যটন, জাহাজ শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প স্থাপনের সুযোগ বিদ্যমান। এইজন্য বিদ্যুত্ ও যোগাযোগসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। প্রশ্ন উঠিতে পারে, যেখানে সাধারণ মফস্বল শহরে চিকিত্সকদের ধরিয়া রাখা যায় না, সেখানে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলে চিকিত্সকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা কি কঠিন নহে? ইহাছাড়া এই ধরনের অনেক প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার কথা থাকিলেও তাহা পর্যাপ্ত নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এইসব অভাব-অভিযোগের ব্যাপারে সম্যক অবগত নিঃসন্দেহে। অনেক চিকিত্সক শুধু প্রাইভেট প্র্যাকটিস নহে, সভা-সেমিনার ও বিদেশ গমন লইয়াও ব্যস্ত। প্রশাসন হইতেই ইহার অনুমোদন দেওয়া হয়। আবার ডাক্তারদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতির ব্যাপারে বহু কড়া নির্দেশ দেওয়ার পরও অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয় নাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় অনেক অভিজ্ঞ। গত ১৫ বত্সর ধরিয়া এবং চতুর্থ দফার মতো তিনি প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করিতেছেন। বর্তমানে পৃথিবীতে এমন অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর নজির বিরল। তাই মফস্বল এলাকায় ডাক্তারদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দ্বীপ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবাগত অসুবিধার ব্যাপারে কী করণীয় তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না।
