এবার মেলা শুরু থেকেই জমে উঠেছে। মেলার শুরুতেই দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মেলা জমে ওঠা নিয়ে আক্ষেপ নেই প্রকাশকদের মাঝে। বরং বাড়তি বিক্রির আনন্দ। তবে পুরো মাসজুড়ে মেলা জমিয়ে রাখেন তরুণরাই। দল বেঁধে মেলা প্রাঙ্গণে এসে আড্ডা দিয়ে ঘুরে ফিরে হুল্লোড়ে মেতে উঠে জমিয়ে তুলছেন বইমেলা।
গতকাল মেলার দুয়ার খোলে বেলা তিনটায়। শীতের মিষ্টি রোদে বইপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে বইমেলা ছিল প্রাণবন্ত। টিএসসি চত্বরের চারদিকে রিকশা গাড়ির হট্টগোল ঠেলে পুলিশ ব্যারিকেড পেরিয়ে বইমেলার পথে একবার পা রাখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। বইয়ের দোকানগুলো হাতছানি দেয়। নতুন নতুন লেখার সঙ্গে পরিচিত হবার জন্য ঝকঝকে মলাটগুলো আমন্ত্রণি আহ্বান নিয়ে উন্মুখ বসে আছে যেন। তার টানে সারাদেশের বইপ্রেমী মানুষ একবারের জন্য হলেও পা ফেলেন মেলা প্রাঙ্গণে।
এবারের মেলার নতুন সংযোজন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন। গতকাল নিজেদের লেখালেখি নিয়ে আলাপনে অংশ নেন আবুল কাশেম, দিলদার হোসেন, শামীম রেজা, অদিতি ফাল্গুনী এবং কৌস্তুভ শ্রী। মেলায় আসা পাঠকদের মাঝে এই নতুন আয়োজন আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, বইয়ের প্রচ্ছদের উজ্জ্বলতা এবং প্রচ্ছদশিল্পীদের ব্যাপক পরিশ্রম ফুটে উঠেছে বইয়ের প্রচ্ছদে প্রকাশনার মানে। গাজীপুরের একটি স্কুলের শিক্ষক আশফাক হোসেন বেশকিছু বই কিনে মেলা থেকে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, মেলায় এসেই মনটা ভরে গেছে। এতো সুন্দর পরিবেশ এবারের মেলার। স্টল ও প্যাভিলিয়নের নান্দনিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্টলগুলোর মান বেড়েছে। ছোট বড় সব স্টলই দেখে আমি মুগ্ধ। তিনি জানান, তাদের স্কুলের লাইব্রেরির জন্য বই কিনতে এসেছিলেন তিনি।
এদিকে, গতকাল রবিবার মেলার তৃতীয় দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে উদ্বোধন হয়েছে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির প্যাভিলিয়নের। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। এ সময় মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ, সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদসহ সমিতির অন্য নেতৃবৃন্দ।
নতুন বই
রবিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩৮টি। এর মধ্যে রয়েছে— তারেক শামসুর রেহমানের ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ ও ‘দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি’, আবুল আহসান চৌধুরীর ‘বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল এক বাঙালির জাপান জয়’ (শোভাপ্রকাশ), জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘বাঙালি জীবনের গল্প’, পূরবী বসুর ‘আলোকিত সহোদরা’ (পুঁথিনিলয়), স্বকৃত নোমানের ‘মায়ামুকুট’, মারুফ রসূলের ‘রক্তকিংশুক’ (পাঞ্জেরী)’, আয়েশা বেগমের ‘বেঁচে থাকি বাংলা ভাষায়’ ও মাসুম বিল্লাহর ‘আইনের ভাব ও অভাব’ (পলল), খান মাহবুবের ‘গ্রন্থকথন’ (রোদেলা) প্রভৃতি।
‘স্বাধীনতা সংগ্রামের উল্লেখযোগ্য ঘটনা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত গুরুত্ববহ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের এক বৃহত্ প্রস্তুতিপর্ব এই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধের মর্ম অনুধাবন করতে হলে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাত্পর্য সম্পর্কে আমাদের বিশদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি রবিউল হুসাইন এবং আলতাফ হোসেন। কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ঝর্ণা সরকার। সংগীত পরিবেশন করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, আবদুর রশিদ এবং নূসরাত বিনতে নূর।
