হাদিস শরিফে এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের যে বিশেষ ছয়টি অধিকার পালনের কথা বলা হয়েছে, তার একটি হচ্ছে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, সাধ্যমতো তার সেবা-শুশ্রূষা করা। বুখারি ও মুসলিমের এক বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, নবি করিম (স) বলেন, ‘একজন মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে—সালামের উত্তর দেওয়া, হাঁচির জবাব দেওয়া, দাওয়াত কবুল করা, রোগীর সেবা করা এবং জানাজায় শরিক হওয়া।’
আহমাদ শরিফের অপর এক বর্ণনায় হজরত আলি (রা) সূত্রে বর্ণিত, নবি করিম (স) বলেন, ‘কোনো মুসলমান অপর কোনো অসুস্থ মুসলমান ভাইকে সকালে দেখতে গেলে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা দোয়া করতে থাকেন, আর সন্ধ্যায় দেখতে গেলে ফজর পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি বাগান তৈরি করা হয়।’
রোগী দেখার ক্ষেত্রে নবি করিম (স) আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হলো—রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে সাহস জোগানো। সুস্থ হয়ে যাবে মর্মে উত্সাহ দেওয়া প্রিয় নবি (স)-এর একটি সুন্নত। কেননা, তার উত্সাহে অসুস্থ ব্যক্তি প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে, সাহস পাবে এবং আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠবে। হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (স) এক বেদুইনকে দেখতে গেলেন। নবিজির নিয়ম এই ছিল যে, যখন তিনি কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন, তখন রোগীকে উত্সাহ দিয়ে বলতেন, ‘লা বাআসা তুহুরা ইনশাআল্লাহ।’ অর্থ, ভয়ের কোনো কারণ নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হয়ে যাবে। (বুখারি)
রোগী দেখতে যাওয়ার নিয়ম হচ্ছে অজুসহকারে যাওয়া। রোগীর জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে যাওয়াও সুন্নত। রোগীর অবস্থা বুঝে শরীরে হাত রেখে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করা। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, শুশ্রূষার পূর্ণতা হলো রোগীর কপালে বা শরীরে হাত রেখে জিগ্যেস করা—কেমন আছেন? রোগীর সামনে এমন কথা বলা, যাতে সে সান্ত্বনা পায়। রোগীর সামনে উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা এবং বেশি সময় ক্ষেপণ না করাও উচিত। সব সময় তার আরামের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, সুন্নাত হলো রোগীর পাশে কম সময় বসা এবং উঁচু আওয়াজে কথা না বলা। রোগীর জন্য দোয়া করা সুন্নত। বিভিন্ন দোয়া হাদিস শরিফে এসেছে। রসুলুল্লাহ (স) বলেন, কোনো রোগীর কাছে গিয়ে ‘আসআলুল্লাহাল আজিম, রব্বাল আরশিল আজিম, আই ইয়াশফিয়াকা’—এই দোয়া সাত বার পড়লে মৃত্যু রোগ ছাড়া সব রোগ থেকে সে সুস্থ হয়ে উঠবে। রোগীর কাছে নিজের জন্যও দোয়া চাইবে হবে। ইবনে মাজাহ শরিফে এসেছে, রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘তোমরা রোগী দেখতে গেলে তার কাছে নিজের জন্য দোয়া চাও। কেননা, তার দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার সমতুল্য।’ অবশ্য করোনা রোগীর ক্ষেত্রে আমাদের একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মাস্ক ও পিপিই পরে এবং সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার সঙ্গে দেখা করতে হবে। আমরা ঘরে বসেও তাদের জন্য দোয়া করতে পারি।
লেখক :আজিমপুর দায়রা শরিফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পির ও মুতাওয়াল্লি
