জেলখানায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিনাবিচারে আটক রয়েছে —সুলতানা কামাল

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৩

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জেলখানাগুলোতে দুই তৃতীয়াংশ মানুষ বিনাবিচারে আটক রয়েছেন। জেলখানাগুলোর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি মানুষ জেলখানায় আটক রয়েছে। তার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ মানুষ বিনাবিচারে আটক। বন্দিদের মধ্যে একটি বড় অংশই কোনো ধরনের অপরাধ না করেই জেলখানায় বন্দি হয়ে আছেন।’

গতকাল রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মানবাধিকার, সংবিধান এবং বাংলাদেশ’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছি। মানুষের মৃতদেহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। কে বা কারা করছে সেটি আদালতের বিচার্য বিষয়। কিন্তু এতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সুলতানা কামাল বলেন, সংখ্যালঘুরা, আদিবাসী বাঙালিরা, নারী-পুরুষ বিশেষ দলিত গোষ্ঠীর লোকেরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। কোনো সভ্য সমাজে এমন বৈষম্য থাকতে পারে না। এটি অসাংবিধানিক। এটি দূর করা প্রয়োজন।  ‘তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, নারী, আদিবাসী যারা কোনো কারণে পিছিয়ে পড়েছিল তাদের সামনে নিয়ে আসার জন্যই কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল। তাই কোটা পদ্ধতি বাতিল করে দেওয়াটাকে সমর্থন করা যায় না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি দমনের ব্যাপারেও আমরা খারাপ অবস্থানে রয়েছি। দুর্নীতি দমনে আমরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মনীন্দ্র কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (আরপিএসইউটি) চেয়ারম্যান রাজীব প্রসাদ সাহা, সদস্য শ্রীমতি সাহা, কুমদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক সম্পা সাহা, মহাবীর পতি, উপদেষ্টা আবু আলম মো. শহিদ খান প্রমুখ।